আমার বাচ্চারা কিভাবে soft-drinks পান করা বাদ দিলো বা কমিয়ে দিলো?

Soft-drinks (Pepsi, 7up, coca-cola, sprite etc.) আমরা ঘরে ঘরেই পান করে থাকি। আজ হতে অনেক বছর আগে হয়তো শুধু মাত্র ছোট খাটো বা বড় আয়োজনে soft drinks থাকতো। কিন্তু এখন আর অনুষ্ঠানের প্রয়োজন হয় না। পরিবারের যে কোন সদস্যের ইচ্ছা হলেই ১-২ লিটার drinks ঘরে নিয়ে আসে হুট-হাট করে এবং সকলেই সেটা ডাল-ভাতের মতো করেই পান করি। বর্তমানের পরিস্থিতি আরো বর্ণনা কারার আগে আমি বরং আমার ছোট বেলায় চলে যাই।

১৯৮০ সনের দিকে বগুড়ায় থাকতাম। ঐ সময়ে আমরা পেপসি খেতাম বছরে ২-৩ বার। আপনারা হয়তো অনেকেই অবাক হলেন, তাই না? ঠিক তাই, বছরে ২-৩ বার। দুই ঈদে পেপসি খেতাম আর হয়তো কোন একটা বাৎসরিক পিকনিকে এক বোতল পেপসি/সেভেন-আপ জুটতো। আমি জানি না সঠিক কি কারণে তখন Soft-drinks খাওয়া আমাদের সমাজে এতো প্রচলিত ছিলো না (হয়তো যথেষ্ট বিজ্ঞাপন হয়নি), যদিও মজাই লাগতো, তবে কেন জানি মনে হয় আমাদের মা-বাবারা ওটার দামের কারণেই হয়তো সপ্তাহে সপ্তাহে Soft-drinks খাওয়া চিন্তাও করতে পারতেন না। তখন একটা ছোট বোতল পেপসির দাম ছিলো ১২ টাকা। পেপসি খেয়ে কাঁচের বোতলটি ফেরত দিলে ৫টা ফেরত পেতাম। মানে ৭ টাকা পানীয়র দাম।

যাই হোক, বর্তামানে আমরা বলতে গেলে প্রতিদিনই Soft-drinks পান করি। ‘প্রতিদিন’ শব্দটার কারণে যারা আপত্তি করবেন তাদের বলি, আমি এমন অনেক অনেক পরিবার দেখেছি, নিজ চোখে, যারা প্রতিদিন Soft-drinks পান করেন। কারো কারো বাসায় কেসের পর কেস Soft-drinks কিনে রাখা হয়।

এবার আসি কিভাবে আমার বাচ্চারা এই মজার Soft-drinks পান করা ত্যাগ করছে সেই প্রসঙ্গে।
আমি খুব সহজ একটা পদ্ধতি পেয়ে গেছি। এই পদ্ধতিতে আপনাকে বাড়তি পরিশ্রম করতে হবে না, বাচ্চাদের সাথে অতিরিক্ত সময়ও কাটাতে হবে না। খুব সহজ আর যে কেউ করতে পারবেন। আমি যেটা করেছি সেটা এই যে, আমি নিজে সকল প্রকার Soft-drinks পান করা বাদ দিয়েছি। ব্যাস, এই কাজটাই হচ্ছে আসল কাজ। এটা যদি আপনারা করতে পারেন তবেই আপনাদের শিশু সন্তানরাও খুব সহজে পারবে। এর চাইতে সহজ আর ইফেক্টিভ্‌ পদ্ধতি সম্ভবত নেই। আর আমি তো সার্টিফিকেট দিয়েই দিলাম যে, আমার বেলায় কাজ করেছে। সুতরাং আপনারা যারা আমার কথা একটু হলেও বিশ্বাস করেন তাদের বলছি যদি আপনিও চান আপনার সন্তান Soft-drinks ও আজ বাজে জুস-ফুস পান করা বাদ দিক, সবার আগে আপনি বাদ দিন। 🙂

শুধু আপনি বাদ দিলেই কি হবে?
না ভাই, শুধু আপনি একা বাদ দিলে হয়তো হবে না। সেটা নির্ভর করবে পরিবারে আর ক’জন সদস্য আছেন এবং তারা আপনার এই প্রচেষ্টাকে কি চোখে দেখছেন। আমি ও আমার বউ পরিবারের বাকি দু’জন বড় সদস্য। আমরা দুজনেই Soft-drinks পান করা বাদ দিয়েছি বা বলতে পারেন ৯০% কমিয়ে দিয়েছি। (বিগত ৪ মাসে আমি সম্ভবত ২-৩ গ্লাস sprite পান করেছি। আর আমার বউ আমার চাইতে সামান্য কিছুটা বেশি হবে।) ভালো কথা, আবার এটা ভাববেন না যে, আমরা আগে প্রতিদিন soft-drinks পান করতাম।

এখন যাদের পরিবারে আরো অনেক বড় সদস্য আছে তাদের জন্য বিষয়টি একটু কষ্টকর হবে। কারণ আপনার শিশু সন্তানদের জন্য এতোগুলি বড় সদস্য কোন একটা বিষয়ে এক মতে আসবে না সেটাই হয়তো স্বাভাবিক। তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি এতোটা সহজ হবে না। কারণ আপনি বাদ দিলেও যখন আপনার শিশু সন্তান দেখবে তার দাদু, নানু, খালা, মামা, চাচা, বড় ভাই-বোনরা পান করেই যাচ্ছে, সে এই মজার drinks বাদ দেবে না। বরং দাদু-নানুরা আদর করেই তাদের নাতি-নাতনীকে এগুলি দেবে। (সত্যিই কি বিচিত্র আমাদের ভালোবাসার প্রকাশ। নাতি নাতনিকে ভালোবেসে ক্ষতিকর খাদ্য খাওয়াই আমরা।)

আমি কি শুধুই পান করা বাদ দিয়েছি নাকি আরো কিছু করেছি?
আমি আরো কিছুটা কাজ করেছি। সেটা এই যে, মোটিভেশনাল কথা বলে বাচ্চাদের উৎসাহ দিয়েছি। যেমন ধরুন বলেছি, “জানো বাচ্চারা, Soft-drinks বাদ দেবার পর থেকে আমার বেশ ভালো লাগে।” “বাহ্‌ তোমরা Soft-drinks খাওয়া বাদ দেবার পর থেকে মনে হচ্ছে আগের চাইতে অনেক strong হয়ে গেছো!” এখানেই শেষ নয়, অনেক মাস আগে থেকেই আমার বাচ্চারা সুইমিং শিখবে বলে আবেদন করে রেখেছে। আমারো ইচ্ছা ছিলো ওদের ছোট বেলাতেই সুইমিং শেখাবো। তো, আমি ওদের বলতাম, “সুইমিংপুলে সাঁতার করতে অনেক শক্তির প্রয়োজন হয়। তোমাদের যদি সেই শক্তি না থাকে তবে তো সুইমিং করতে গিয়ে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যাবে, সাঁতার শেখাই হবে না। তাই তোমাদের নিয়মিত দুধ-ডিম খাওয়া দরকার, বাজে খাবার বাদ করা দরকার, বাজারের আজে আজে জুস-ফুস বাদ দিতে হবে, Soft-drinks বাদ দিতে হবে…” এই ধরনের কথা বলতাম আমি। ব্যাস, ওদের চরম আগ্রহের সুইমিংপুলের জন্য ওরাও মোটিভেশন পেয়ে যায় এবং সত্যিই বলছি ওদের ভেতর এই সব খাবারের প্রতি আগ্রহ দিন দিন কমছে। বরং এখন ওরা নিজে চেয়ে দুধ-ডিম খায় (বাচ্চারা সাধারণত এটা করতে চায় না)। ভালো কথা, বিগত ৩ দিন ধরে ওদেরকে সাঁতার শেখাচ্ছি। ওরাও খুব মজায় আছে। আর ওদের খাবার পরিমাণ হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। আগে হয়তো একটু খেয়েই আর খেতে চাইতো না। এখন ১ ঘণ্টা সাঁতার করে এসে উল্টা চেয়ে চেয়ে খায়। বলে, ক্ষুধা মেটেনি, আরো দাও। 🙂

এটা পড়তে গিয়ে যদি কেউ মনে করে থাকেন যে, আমি খুব বাড়াবাড়ি করছি বাচ্চাদের সাথে Soft-drinks নিয়ে তাদের জন্য বলি, আমি এই মিশনে নামিনি যে আমার বাচ্চারা জীবনে আর Soft-drinks পান করবে না। বরং আমি চাই ওরা ক্ষতিকর ও অক্ষতিকর বিষয়গুলি জানুক। আমি জানি Soft-drinks আমাদের বর্তমান life style-এর একটা অংশ হয়ে গেছে। যেমন যদিও আমি অল-মোস্ট বাদ দিয়েছি তাও কোন প্রোগ্রামে হয়তো এক গ্লাস খেয়ে ফেলছি। আমি শুধু চাই, আমার বাচ্চারা যেন ঐ সকল বাচ্চাদের মতো না হয় যারা স্কুলের টিফিনেও Soft-drinks বা আজে বাজে খাবার খায় বা বাজারের আজে বাজে জুস খায়। অলরেডি আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় ফরমালিন একটা গোপন মেনু হয়েই গিয়েছে। ফরমালিনকে এতো সহজে আমরা বাদ দিতে পারছি না। এতো কিছুর মাঝে আমি চাইছি, আমার হাতে ক্ষতিকর যা কিছু বাদ দেবার সুযোগ আছে তা যেন বাতিল করতে পারি। ব্যাস এটুকুই। 🙂

বিভিন্ন drinks/energy drinks এর উপর প্রচারিত একটি প্রতিবেদন দেখুন।

আপনার বাচ্চাকে এই ভিডিওটি দেখান। বাজে খাবার ত্যাগ করার জন্য হয়তো মোটিভেশন পেতেও পারে।


যদি এই লেখার বক্তব্য ভালো লেগে থাকে এবং যদি প্যারেন্টিং বিষয়ে আরো আলোচনা করতে চান তবে Facebook Group-এ যোগ দিন। এই গ্রুপে আমরা প্রধানত বাংলায় আমাদের সন্তানদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে থাকি।


আর যদি হাতে একটু সময় থাকে ২-৪-৫-১০ মিনিটের কিছু ছোট ছোট video clip দেখবার তবে অবসরে চা/কফি খেতে খেতে আমার YouTube Channel টি ভিজিট করতে পারেন। আমার বিশ্বাস এই Channel টির অধিকাংশ video clip আপনার পছন্দ হবে।


This entry was posted in খাবার-দাবার, ভিডিও, শিশু লালন পালন বিষয়ক. Bookmark the permalink.

আমার বাচ্চারা কিভাবে soft-drinks পান করা বাদ দিলো বা কমিয়ে দিলো?-এ 8টি মন্তব্য হয়েছে

  1. আপনার সাথে একমত। আমরা এখন পান করি না বলে আমার ছেলেও এখন আর পান করে না। আমি না পান করার ব্যাপারে ওকে এইসব পানীয় কি কি ক্ষতি করে তা বুঝিয়ে দিয়েছি, কাজ হয়েছে।

    আপনার এই প্রচেষ্টা একদিন সাফল্য লাভ করবেই।

    ভাতিজিরা কেমন আছে? এবার কোন শ্রেনীতে পড়ছে?

    সালাম ও শুভেচ্ছা সবাইকে।

  2. Mahsina Mamtaz Maria বলেছেন:

    আলহামদুলিল্লাহ্‌। আরও একটা ছোট বিপ্লব শুরু হল আপনার আর আমাদের রামিসা+জুমানার হাত দিয়ে। আমরাও এই ভয়ঙ্কর জিনিসটা খাওয়া+কেনা বন্ধ করেছি ২০০৮ এ। এর আগে যে খুব খেতাম তা কিন্তু না। খুব অবাক লাগে আর কষ্টও লাগে যখন আমাদের বাসায় অনেক মেহমান (সবাই না) মনে করেন আমরা বুঝি খরচ বাচাতে বা ভুলে গিয়ে সফট- ড্রিংক কিনিনি এবং ওনারা নিজের পয়সা দিয়ে কিনিয়ে আনেন!!!
    শীবলী ভাই, আপনার এই ফরমুলা (আগে নিজে বাদ দেয়া/ উদাহরন সেট করা) তো পৃথিবীর সমস্ত ভাল কাজের establishment এর প্রথম শর্ত। আল্লাহ আপনার প্রচেষ্টা কবুল করুন, আমীন।

    • Shiblee বলেছেন:

      মেহমান কে soft drinks দিয়ে আপ্যায়ন আমরাও বন্ধ করে দেবো চিন্তা করেছি। তবে আপনার অভিজ্ঞতাটা যেহেতু আগেই জানিয়ে দিলেন, আমরা সাবধান হয়ে যাবো। হতে পারে বাসায় কোন পানীয় বানিয়ে রাখবো বাজারের soft drinks এর বদলে।

  3. আশরাফ বলেছেন:

    আমিও soft drinks খাওয়া অনেক আগেই বাদ দিয়েছি। স্বাস্হগত, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কারণে। খাবারের তালিকা থেকে যারা এটিকে একেবারে বাদ দিতে পারেনা, তারা এটার পরিবর্তে ফলের রস খেতে পারেন। আমাদের দেশে যদিও বিশুদ্ধ ফলের রস পাওয়া প্রায়ই অসম্ভব। এটা বাসাতেই বানাতেই হবে। বাইরের দেশে ফলের রস একটা ভাল বিকল্প।

  4. Mrinmoy বলেছেন:

    bhai, babyder k kothay shikhachchen swiming???

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s