প্রশ্ন-উত্তর: প্রচন্ড দুষ্টু বাচ্চার দুষ্টুমি কমান নিয়ে প্রশ্ন

প্রশ্ন করেছেন Nurul Alam Polash, 2 August 2012
প্রশ্ন: Amar meyer age 26 months……Extra ordinary dusto….Life hell kore disse…kivabe or dustami komabo?


Subarna Pottpottani
Dushtami komuk ar na komuk tobe apnar jonno ekta chotto abedon…Please kokhkhono marben na…ora mone rakhe na and mere kokhono 26 mash er bachcha thik o hoy na…kharap jeta hoy sheta holo maramari shikhe and ektu agressive hoye jay…na mere time out or kotha na bola ekta valo upay.


Samia Ahammed
amar cheler age arai bochor .seo khobe dusto. But ami tar dustomi enjoy kori .jkhon beshi dustomi kore tokhon take boli cholo amar onno kiso kori hote pare seta chobi aka, cricket khela ba boi pora, gaan shona. phole tar dustomite akta break ase. ami mone kori oder dustomi korte dea dorkar. asomoy dostomi korbnato kokhon korbe……


Samia Ahammed
amar cheleo kisodin age same dustomigolo korto. ami shobsomoy or sathe thaki jate kono bipod na hoi. oke ami onek bolechi kinto o shontona.babyra amoni tader jeta korte baron kora hoi tara ota beshi kore. amar chele akhon ar ta kore na. apni mayeke somoy din dekben amar bisshas se dustomigolo ar kobena.


Nurul Alam Polash
@ Samia….Thnx apa..apnar poramorsho ta ektu try korte chai…janabo pore result ki holo…problem hosse ami office a busy thaki raat porjonto…or ma ghorer kaj sob ek hathe shes kore apnar poramorsho moto ok time dite parbe kina Allah valo jane


Shiblee Mehdi
Nurul Alam Polash ভাই – বুঝতে পারছি বিষয়টি খুবি ভয়ানক পর্যায়ে চলে গেছে।
(১) আপনারা দুজন বা বাসার আর সকলে কেমন আচরণ করে থাকেন ঘরে সেটার দিকে খেয়াল করুন।

(২) আপনাদের উভয়ের মা-বাবার কাছে থেকে জানার চেষ্টা করবেন যে, আপনারাও দুজন/একজন ছোট বেলায় এমন দুষ্ট ছিলেন কিনা? ওর

(৩) আপনারা দুজন নীলিমার এই সকল কাজগুলিকে আগে মন থেকে মেনে নিন। ধরেই নিন, সে শিশু তাই এগুলি করবে। এটুকু যদি করেন তবে আপনাদের মানসিক যন্ত্রণা অনেক কমবে এবং তখন নীলিমার কারণে আপনাদের দুজনের মতবিরোধ হয়তো কমবে।

(৪) নীলিমা কি বড় একটা সময় মা-বাবা ছাড়া ঘরে অন্য কারো কাছে থাকে? যদি এমন হয়, সেদিকে খেয়াল করুন।

(৫) সম্ভবত নীলিমা ওর interested বিষয়ে attention কম পায়। ওর talent-এর প্রতি যথেষ্ট attention দিন। Samia আপুর পরামর্শটা অনেক কাজে দেবে এই ক্ষেত্রে। যখনি যথেষ্ট দুষ্টুমি করছে তখন ওকে নিয়ে কিছু করুন। ওকে অর্ডার দিয়ে লাভ হবে না। যাও ছবি আঁকো, যাও খেলা করো, এই সব বলে লাভ নেই। বরং ‘চলো আমরা ছবি আঁকি’ বলতে হবে। গল্প পড়িয়ে শুনাতে পারেন। প্রতিটি শিশুই গল্প শুনতে চায়। এমন কি একই গল্প বারবার শুনে শিশুরা।

(৬) যখন নীলিমা জিদ করবে বা দুষ্টুমি করবে বকাবকি করে লাভ নেই। চড় থাপ্পড় দিয়ে আপাতত কাজ হয় বলে অনেকেই মনে করে। কিন্তু সেটা ভবিষ্যতের জন্য সমস্যা বয়ে আনবে। ধরে নিলাম, নীলিমা একটা কথা শুনছেই না। এই ক্ষেত্রে অনেকেই অনেকগুলি অপশন দেয় বাচ্চাদের। যেমন ‘তুমি কাজটা করো, তবে তোমায় চকলেট দেবো’ তাও শুনছে না। তখন হয়তো বললেন, ‘তুমি কাজটা শেষ করো, তোমায় শিশু-পার্কে নিয়ে যাবো।’ তাও মানছে না। তখন বললেন, ‘কাজটা করো, তোমায় নতুন খেলনা দেবো।’ এভাবে অনেকগুলি অপশন ওকে দেবেন না। বরং জাস্ট বলবেন, ‘তুমি কাজটা শেষ করো।’ না মানলে আবারো বলুন, ‘নীলিমা ভালো মেয়ে। আমি চাই তুমি আমার সাথে কাজটা শেষ করো।’ মানছে না, আবার বলুন, ‘প্লিজ কাজটা শেষ করো, বাবা অনেক খুশি হবে।’ আর যখনি সে কাজটা করার জন্য রাজি হবে সাথে সাথে তাকে ধন্যবাদ বলবেন। কাজটা করার সময় উৎসাহ দেবেন। এবং প্রকাশ করবেন যে আপনি আসলেই খুশি হয়েছেন।

(৭) অন্যের সামনে মোটেও বলবেন না যে নীলিমা খুব দুষ্ট। আমরা অনেক সময় মেহমানের সামনে এই কথাগুলি খুব হাসতে হাসতে বলি বারবার। এ কাজ করার একদম দরকার নেই। ও যে দুষ্টু সেটা আপনারা ভুলেই যান। দুষ্টু শব্দটা ওর টাইটেল থেকে সরিয়ে ফেলুন। বরং ওর প্রশংসা করুন। (এটা দেখুন http://wp.me/p1aEoY-o0)

(৮) punishment বা শাস্তি দেয়া বন্ধ করুন। যেমন ধরে নিলাম নীলিমার ইচ্ছা বিস্কুট খেতে দিয়েছেন কিন্তু সে বিস্কুট খেতে গিয়ে কিছুটা ফেলছে কিছুটা খাচ্ছে বা মেঝে থেকে কুড়িয়ে খাচ্ছে। তখন এমনটি বলবেন না, ‘তুমি যদি মেঝেতে বিস্কুট ফেলো তবে তোমার punishment হবে রাতে বেশি ভাত খেতে হবে।’ মনে রাখবেন punishment শিশুদের জন্য নয় এটা criminal দের জন্য। বরং বলেন, ‘তুমি যদি মেঝেতে বিস্কুট ফেলো তবে তোমার সাথে একটা মজার খেলা খেলবো না।’ (এটি পড়ুন http://wp.me/p1aEoY-3S)

(৯) মা-বাবা, আপনাদের দুজনকে নীলিমার কাছে খুব interesting দুটি character হতে হবে। আপনারা যতো interesting হবে, সন্তান আপনার কথা শুনবে।

(১০) আপনারা কি জানেন নীলিমার সবচেয়ে পছন্দের কাজ কি কি? সেই কাজগুলি, খেলাগুলি নীলিমাকে নিয়ে করুন। ভালো কাজ করলে ওকে পুরষ্কার দিন। (এটি পড়ুন http://wp.me/p1aEoY-h9)

(১১) আর যদি এমন হয় যে, আপনারা যথেষ্ট creative নন বাচ্চার সাথে মজার সময় কাটাবার জন্য, তবে বাজারে বেশ ভালো ভালো সিনেমা আছে বাচ্চাদের জন্য। আপাতত (আমি কিন্তু আপাতত বলেছি) সেগুলি নীলিমাকে সাথে নিয়ে বসে দেখুন। জাস্ট টিভি চালিয়ে দিয়ে নীলিমকে একা একা দেখতে দেবে না।

পরামর্শ আরো অনেক দেয়া যেতো, তবে আপনাদের সাথে সামনা সামনি কথা বললে বা আপনারা নীলিমার সাথে বাসায় কি করেন সেগুলি আমি নিজ চোখে দেখলে পারলে হয়তো আরো specific কিছু বলতে পারতাম। যাই হোক, আপনারা দুজন একসাথে আমার এই সকল পরামর্শগুলি পড়ুন। পড়ে শেষ করুন। অবহেলা করবেন না প্লিজ। তারপর দুজনে সিদ্ধান্ত নিন কোন কোন বিষয়গুলিতে আপাতত কাজ করবেন। আপনারা ভাগ করে নিন কোন কাজটা কে করবেন। যেমন আপনি হয়তো ওর সাথে ছবি আঁকায় সময় দেবেন আবার ভাবি হয়তো আরেকটি কাজে সময় দেবে। কষ্ট হবে, তাও দুজনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন যে, নীলিমার সামনে ওর দুষ্টুমির জন্য আপনারা দুজন দুজনকে দোষারোপ করবে না, ঝগড়া করবেন না। আর ওর প্রতিদিনের খাওয়ার জন্য ভাবিকে নরম হতে বলুন এবং আপনি অন্তত রাতের খাবার খাওয়ানোর দায়িত্ব নিন।


M N Islam Shihan
ভাই, আমার ছেলের বয়স প্রায় আপনার মেয়ের কাছাকাছি (২২ মাস) এবং আপনি আপনার মেয়ের ব্যাপারে যা যা বললেন তার almost সব কিছুই আমার ছেলের সাথে মিলে যায়। কিন্তু আপনি আপনার মেয়ের দুষ্টুমি করা বা অবাধ্যতা কে যে দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন আমি দেখি ঠিক তার উল্টো দৃষ্টিকোণ থেকে। একজন স্বাভাবিক মানব শিশুর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সে তার প্রিয় মানুষদের কাছ থেকে attention & appreciation seek করা। স্বভাবতই, মা ও বাবা, তার সবচেয়ে প্রিয় এবং তাদের কাছে তার দাবীও সবচেয়ে বেশী। কিন্তু এখনকার সময়ে, আমরা মা-বাবা, বিশেষ করে কর্মজীবি মা-বাবারা, almost সব সময়েই busy থাকি এবং বাচ্চার দাবী অধিকাংশ সময়েই পুরন করতে পারি না। আমি খেয়াল করে দেখেছি, যখন আমি বা আমার স্ত্রী তাকে সময় দিতে পারি, তাকে নিয়ে খেলি, তখন সে সবচেয়ে শান্ত থাকে; যখন পারি না, নিজেদের কাজ নিয়ে ব্যাস্ত থাকি, তখন সে তা বুঝতে চায় না এবং এমন সব কাজ করে যা আমাদেরকে প্রকারান্তরে বিরক্ত করে তোলে। তখন স্বাভাবিক ভাবেই আমরা তাকে বকা-ঝকা করি, কখনো হয়তো মেরেও বসি, কিন্তু তার ফলাফল কখনোই ভাল হয় না। বাচ্চা আরো বেশী অবাধ্য হয়ে ওঠে। সুতরাং আমাদের উচিত বাচ্চাকে আরো বেশী সময় দেয়া, তার খেলার সাথী হয়ে উঠার চেষ্টা করা। আমি নিজের জীবন থেকেই বুঝি তা কত কঠিন। সারাদিন অফিস করে এসে আমি এবং আমার স্ত্রী দুজনেই ক্লান্ত থাকি, সবশময় ধৈর্জ্য-ও থাকে না। তবুও আমাদের উচিত নিজের external কোনো কাজকে বাসায় নিয়ে না এসে, যতটা সম্ভব নিজের অবশিষ্ট সময়টুকুকে বাচ্চার জন্য বরাদ্দ করা। স্বাভাবিক ভাবেই মাকে যেহেতু বাসার ও বাচ্চার বিভিন্ন কাজে অনেক বেশী ব্যাস্ত থাকতে হয়, বাচ্চাকে সঙ্গ দেয়ার দায়ীত্বটা বাবাকেই বেশী নেয়া উচিত (যখনি বাসায় থাকি)। পেশায় software engineer হওয়ার কারণে আগে আমি বাসায় ফিরেই ল্যাপ্টপ নিয়ে বসতাম, এখন আর তা করি না, খুব জরুরী কোনো কাজ থাকলে বাচ্চা ঘুমানোর জন্য অপেক্ষা করি। আমি বিশ্বাস করি, আমরা মা-বাবা রা বাহিরে যাই করিনা কেনো, তার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো নিজের পরিবারকে স্বচ্ছল ও পরিপুর্ণ করা। যেই পরিবারের জন্য সারাদিনের এত এত ব্যাস্ততা, এত কিছু করা সেই পরিবারেই যদি সুখ স্বাচ্ছন্দ না থাকলো, তাদেরকেই যদি সময় দিতে না পারলাম, তাহলে ultimately, জীবনের হিসেবের খাতায় বড় একটা শুন্য ছাড়া আমি কিছুই দেখি না। আরো একটা ভুল আমরা প্রায়ই করে বসি, আর তা হলো – নিজের সন্তান কে নিজের মত করে তোলার চেষ্টা, তাকে বড় মানুষের মত করে treat করা। দুনিয়ার আর সব মানুষের মতোই আমাদের শিশুরাও স্বকীয়। তাদের সাথে মিশতে হলে, তাদের বন্ধু হতে হলে; তাদের মতো হওয়ার, তাদের বয়সে নেমে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আমি জানি না, আমার ব্যাক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা আপনার জীবনে কাজে আসবে কিনা (কারণ প্রতিটি মানুষের জীবন ও পরিস্থিতি আলাদা এবং এটাই স্বাভাবিক), তবুও শেয়ার করলাম। যদি আপনার কোনো কাজে লাগে। তবে এটুকু বলতে পারি, বাচ্চা কে দোষারোপ না করে, আত্মসমালোচনা করে, আমি আমার বাচ্চার ক্ষেত্রে সুফল পেয়েছি, পাচ্ছি। আপনিও চেষ্টা করে দেখতে পারেন। আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করুন।

বি.দ্র.: শিবলি ভাইয়ের পরামর্শ গুলোর সাথে আমি ১০০% একমত, তাই পুনারাবৃত্তি করলাম না।


Nurul Alam Polash
Emon ekta group a member hote pere ami khuubi proud feel korsi….sobai jno ekta poribar….Shiblee vai k dhonnobad jananor vasha nai emon ekta group kore sabai k ek sutai badhar jonno….Valo lagse eta dekhe j NILIMA jno sudu amar meye noi, sobar meye. Sobai or jonno vabse. Sobar poramorsho shune bujte parchi ashole problem amader baba& ma er kom noi…amader views change korte hobe. Eta sotto baba hishebe amar family k aro somoi deya uchit, kintu Job & Professinal study niya amar somoi emon kate j ami Nilima k kisu somoi diya amar wife k kisuta relax korar sujok dite pari na……meyeta amar kasakasi thakte khub posondo kore. Ami obak hoye lokkho koresi meyeta or ma k voy pai, kintu amar sathe she tar aggressive attitude gulo dekhai, jno sob dustumi sudhu baba k dekhate hobe…haahahaha…I really feel that i have to change my views to my daughter & family as well. I really want to apply all the suggestions got from my above friends. Thanx to all


Ekka Dokka Hurrehua
Nurul Alam Polash apni bujhthe perechen dekhe valo lagche. sob meyera e mone hoi babar voktho, amar tho khub e hingse hoi baba der k. r Shiblee Mehdi vai er tho dui meye so onar jonno hingse ta onek beshi. ei group ta e sobai j kotota upokritho hochhce ta bole sesh kora jabe nah, apnake sudhu Thanks dile tho kom hoye jai. amar meyer kotha e boli amra dujon baire theke ek sathe baai gele meye tar babar kole e age jabe, even amar dike takabe nah porjontho, ethota e se babar voktho. baba na thakle tokhon amar kache ashe. baby ra ashole baba ma dunjonke e chai, baba-ma dujon ek sathe tar sathe khelle se oi time ta beshi enjoy kore.


Ishrat Jahan Runa
Sobai k thanks eto valo poramossho deyer jonno.Amr NILIMA ekhon besh valo hoye gese.Amr kotha thikmoto bujte pare,amak gorer choto choto kaje help kore,khabar niye r jhamela korena……..Special thanks to Nilimas father Nurul Alam Polash & Shiblee Mehdi


Shiblee Mehdi
আমার নিজেরই বিশ্বাস হতে চাইছে না যে, এতো দ্রুত কাজ হয়েছে! এখানে নিলিমার চাইতে বরং আমি বলবো আপনারা দুজন (Runa আপু ও Polash ভাই) বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সেটা অর্জনের চেষ্টা করেছেন। শিশুরা তো শুধু পরিবেশ চায়। ওকে যে পরিবেশ দেয়া যাবে সেই পরিবেশেই দ্রুত খাপ খাইয়ে নেবে। সত্যিই আমি আনন্দিত!


অনেক আলোচনা থেকে কিছু কিছু আলোচনা তুলে ধরলাম। ফেসবুকে সম্পূর্ন আলোচনা পড়তে এখানে ক্লিক্‌ করুন

Gallery | This entry was posted in প্রশ্ন-উত্তর, শিশু লালন পালন বিষয়ক. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s