দুষ্টুমির এই শাস্তি!

বাবার সঙ্গে শিশু তানিয়া আক্তার

জীবনের প্রথম পরীক্ষাতেই অংশ নিতে পারল না শিশুটি। শিক্ষকের বেত্রাঘাতে রক্তাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হলো তাকে। মাথায় কয়েকটি সেলাই লেগেছে। অমানবিক নির্যাতনের শিকার এ শিশুটির নাম তানিয়া আক্তার (৬)। সে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাসুরভিটা গ্রামের দরিদ্র কৃষক আবু তালেবের মেয়ে।

গত বুধবার উপজেলার বাসুরভিটা রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।

মেয়েটির পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাসুরভিটা গ্রামের বাসুরভিটা রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী তানিয়া আক্তার। বুধবার প্রথম সাময়িক পরীক্ষা দেওয়ার জন্য সে বিদ্যালয়ে যায়। পরীক্ষা শুরুর আগে শ্রেণীকক্ষে বসে শিশুরা চিৎকার-চেঁচামেচি আর দুষ্টুমি করছিল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষক তাজুল ইসলাম বেত দিয়ে প্রচণ্ডভাবে তানিয়ার মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মাথা কেটে যায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এ দৃশ্য দেখে অন্য শিশুরা ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে তা শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং তানিয়াকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে সদর হাসপাতালের চিকিৎসকেরা ওই দিনই তানিয়াকে রংপুরে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। কিন্তু অর্থাভাবে মেয়েকে রংপুরে নিয়ে যেতে পারেননি আবু তালেব। এরপর গতকাল শনিবার কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আবেদ হোসেন আবু তালেবকে পাঁচ হাজার টাকা সাহায্য করেন। সেই টাকায় গতকাল তানিয়াকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, তানিয়ার অবস্থা খুবই খারাপ। মাথার ক্ষত অনেক বড় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় সে ঝুঁকিতে আছে। তাকে বাঁচাতে হলে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে হবে।

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, শিশুটির অবস্থা ভালো না। তাই তাকে রংপুরে পাঠানো হয়েছে।

তানিয়ার বাবা আবু তালেব ও চাচা রিয়াজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক গোলাপ উদ্দিন প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় স্কুলে নিয়মিত আসেন না। তাই ন্যাশনাল সার্ভিসের শিক্ষকেরা ক্লাস নেন। তাঁরা নিয়মিত শিশুদের বেত্রাঘাত করেন।

জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক গোলাপ উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি খুব দুঃখজনক। তাজুল ইসলাম বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষক না। ন্যাশনাল সার্ভিস থেকে তাঁকে এ বিদ্যালয়ে প্রেষণে দেওয়া হয়েছে। ইউএনওকে জানিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইউএনও কাজী আবেদ হোসেন এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘একজন শিক্ষকের আচরণ এ রকম হতে পারে না। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

মুঠোফোন বন্ধ থাকায় শিক্ষক তাজুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


সোর্স: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-22/news/252158

Advertisements
This entry was posted in পত্র পত্রিকা, শিশু লালন পালন বিষয়ক. Bookmark the permalink.

3 Responses to দুষ্টুমির এই শাস্তি!

  1. Mardia বলেছেন:

    এই অপরাধগুলার শাস্তি এতো ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে হয় কেন? যিনি মেরেছেন তাকে তো সাথে সাথে গাছের সাথে বেঁধে পিটায় দেয়া উচিত। ভবিষ্যতে আর কেউ সাহস পাবে না। এখন মামলার দীর্ঘসূত্রীতায় দেখবেন কিচ্ছু সমাধান হবে না, শুনানী আসতে আসতে বাচ্চাটা সুস্থ হয়ে প্রমাণ গায়েব হয়ে যাবে।

    • Shiblee বলেছেন:

      আপু, এটা সত্যিই খুব কষ্টকর। যদি এমন করতে পারতাম যে, শিশুদের সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায় গুলির দ্রুত বিচার হবে। আমরা যদি আলাদ একটা বিভাগ খুলতে পারতাম।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s