বিষের নাম ট্রান্সকমের স্লাইস

ভালোবেসে আমদের শিশুদের কি খাইয়ে থাকি তা পড়ে দেখুন। বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন শেয়ার করছি।

‘স্লাইস’ আমের জুসের নামে বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য বাজারে ছাড়ছে ট্রান্সকম বেভারেজ। জুসের জন্য ব্যবহার করা রঙের মধ্যে রয়েছে ক্যান্সারসহ প্রাণনাশক আরও বিভিন্ন উপাদান। অনুসন্ধানে স্লাইস ম্যাংগো জুস তৈরির যে ফর্মুলা জানা যায়, তাতে বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্যের উপস্থিতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়াও ‘স্লাইস’ বাজারজাতকরণের জন্য বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই) নিয়মও মানছে না ট্রান্সকম বেভারেজ।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটির একজন প্রাক্তন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি ‘স্লাইস ম্যাংগো জুস’ তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন দীর্ঘদিন। ‘স্লাইস ম্যাংগো জুসে উপাদান হিসেবে থাকে সুগার সিরাপ। চিনি গলিয়ে এ তরল তৈরি করা হয়। চিনির এ উপাদানে ফ্যাট হয়, যাতে রয়েছে ডায়াবেটিসের উপাদান।’

জুসকে ভারী ও ঘন করার জন্য ব্যবহার করা হয় বেন্থাম গাম। এটি আঠালো ধরনের একটি রাসায়নিক পদার্থ যা তরলকে দীর্ঘদিন সুরক্ষিত রাখে। তিনি বলেন, বেন্থাম গাম তৈরি হয় এক ধরনের গাছের মূল থেকে। তবে গাছের নাম তিনি জানাননি। তিনি বলেন, ‘জানলে মানুষ কখনো জুস খেতে চাইবে না। এটি অতি গোপনীয়।’

ভিটামিন ‘সি’র উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয় এসকরিক অ্যাসিড। এ ছাড়াও স্লাইসে যে টকটক ভাব রয়েছে, তার জন্য ব্যবহার করা হয় সাইট্রিক অ্যাসিড। এটি টক ভাব ও তরলের ক্লিয়ারিটি আনে। ফ্লেভারের জন্য ব্যবহৃত উপাদানে থাকে অ্যালকোহল, যা শরীরের জন্য মারাত্দক ক্ষতিকর। এটি এক ধরনের ব্যতিক্রমী স্বাদ যোগ করে। তিনি বলেন, অ্যালকোহলের ধর্ম হচ্ছে প্রথমে গরম হয়ে পরে শীতল হওয়া। এ কারণে স্লাইস খেলেই ভোক্তা মনে করে ক্লান্তি দূর হয়েছে। আসলে এটি ভুল ধারণা। স্লাইসে কম-বেশি অম্ল থাকে। এটা গ্যাস্ট্রিক, আলসারসহ অন্যান্য রোগের কারণ।

পানীয়টিতে সবচেয়ে ক্ষতিকর যে উপাদানটি থাকে তা হচ্ছে ‘রং’। রঙিন শাকসবজি পচিয়ে তৈরি করা হয় এ রং। কৃত্রিম রং তৈরির জন্য রাসায়নিক উপাদান হিসেবে দেওয়া থাকে ভাইটা ক্যারোডিন। এর ফলে ক্যান্সারসহ মারাত্দক সব জীবনহানিকর রোগ হতে পারে। ভাইটা ক্যারোডিন মাত্রায় বেশি হলে এটি রক্তের সঙ্গে খুব দ্রুতই মিশে যায়, যার থেকে হতে পারে ক্যান্সার। এটি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর, যার প্রভাব পড়ে ১৫ দিনের মধ্যেই।

ভাইটা ক্যারোডিনে ‘এ’, ‘ডি’, ও ‘ই’_ এ তিনটি উপাদান থাকে যা অঙ্গহানির কারণ হতে পারে। ‘স্লাইস ম্যাংগো জুস’-এ প্রিজারভেটিভ উপাদান হিসেবে থাকে সোডিয়াম বেনজয়েট, পটাশিয়াম মেটাফাইড, সালফাইট মেটাফাইডসহ বেশ কয়েকটি রাসায়নিক উপাদান। এসব উপাদান শরীরের জন্য মারাত্দক ক্ষতিকর। স্লাইসে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান বাচ্চাদের জন্য খুবই ক্ষতিকর বলে জানান এ কর্মকর্তা। এ ছাড়াও এসব প্রিজারভেটিভ ও ভাইটা ক্যারোডিন গর্ভবতীদের মৃত্যুরও কারণ হতে পারে। এদিকে বিএসটিআইর নিয়ম না মেনেই স্লাইসের ২৪০ মিলিলিটারের কাচের বোতল বাজারজাত করছে ট্রান্সকম বেভারেজ। বোতলের গায়ে তরলে ব্যবহৃত উপাদান এবং রাসায়নিক উপাদানের পরিমাণ উল্লেখ করার নিয়ম থাকলেও তা নেই ‘স্লাইস’-এর বোতলে। এ ছাড়াও ফ্যাক্টরির কোনো ঠিকানাই দেওয়া নেই।

পণ্যের লাইসেন্স-সংক্রান্ত আইন ১৯৮৫ অনুযায়ী নিয়ম না মেনে বাজারে বিক্রি করায় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের চার বছরের জেল এবং সাত হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে বলে জানান বিএসটিআইর ডেপুটি ডিরেক্টর মো. নূরুল আমিন।

তিনি বলেন, নিয়মানুযায়ী পানীয়ের বোতলের গায়ে রাসায়নিক উপাদানের নাম উল্লেখ না করা দণ্ডনীয় অপরাধ।


নিজস্ব প্রতিবেদক, সোর্স: বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২৫-জানুয়ারী-২০১২, প্রথম পাতা।

This entry was posted in খাবার-দাবার. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s