শীতে গোসলের গরম পানি আর আমাদের শিশু সন্তানেরা

শীত এসেই গেছে প্রায় আর তাই গরম পানির ব্যবহার বেড়ে যাচ্ছে। অনেক উন্নত দেশেই হয়তো গোসলের জন্য আলাদা করে চুলা থেকে গরম পানি করতে হয়না। বাংলাদেশেও অনেকেই গরম পানির মেশিন সেটআপ করে নিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো সকলের বাসায় গোসলের গরম পানি রান্নাঘরের চুলা থেকেই হয়ে থাকে। আপনারা অনেকেই হয়তো সচেতন নন যে, প্রতিবছর গরম পানিতে অনেক দূর্ঘটনা ঘটে বাসা-বাড়িতেই। একটু অসতর্কতার কারনে সামান্য গরম পানিতে প্রতিবছর অনেক শিশুর মারাত্নক ক্ষতি হয়ে থাকে। আর এ ধরনের দূর্ঘটনার জন্য একজন শিশু নয় বরং আমরা বড়রা দায়ী।

ঘটনা-১
গোসলের গরম পানি বাথরুমে রেখে চলে আসে। বাথরুমের দরজা খোলা ছিলো। হাঁটা শিখেছে এমন শিশু ছিলো ঐ বাসায়। কখন যে শিশুটি বাথরুমে চলে গিয়ে গরম পানিতে হাত দিয়ে দেয় কেউ বুঝতেই পারেনি। তারপর বুঝতেই পারছেন। কারো কারো কাছে শুনেছি অটোমেশিনের গরম পানিও বেশ গরম হয়ে থাকে। বাথটাবে সেই গরম পানি রেখে দরজা খুলে রাখায় পরবর্তিতে বাসার শিশু সেই পানিতে পড়ে গিয়ে ঘটেছে বড় দূর্ঘটনা।

ঘটনা-২
গোসলের গরম পানি রান্নাঘর থেকে বাথরুমে নেবার সময় দরজা পার হতে হয়েছিলো। দরজার পর্দা সরানো ছিলো না, ঝোলানো ছিলো। যখন গরম পানির হাড়ি নিয়ে বহনকারী দরজার পর্দার এপার, ঠিক তখনি একজন শিশু পর্দার ওপার দিয়ে দৌড়ে আসছিলো। ব্যাস, দুজনের সংঘাত ঠিক পর্দার মাঝে একসাথে আর সাথে সাথে বড় দূর্ঘটনা। অথচ গরম পানি বহনের আগে একটু সতর্ক হলেই এই ধরনের দূর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিলো।

ঘটনা-৩
গোসলের গরম পানি হাড়িতে। রান্নাঘর থেকে বাথরুমে নেবার সময় হাত থেকে ফস্‌কে পড়ে যায় আর সেই গরম পানিই ছিটকে গায়ে পড়ে গরম পানি বহনকারী শিশু গৃহপরিচারিকা (বা যাদেরকে সোজা বাংলায় কাজের লোক বলে থাকি আমরা।)।

তিনটি ঘটনাই বাস্তব আর আশা করি তিনটি ঘটনা যথেষ্ট গরম পানির কারনে যে বড় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে তা বুঝার জন্য। যে বাসায় শিশুরা থাকে সেই বাসার বড়দের অধিক সচেতন হওয়া দরকার শীতে গোসলের গরম পানি ব্যবহার করা নিয়ে।

আমার বাসায় কিভাবে গোসলের গরম পানি ব্যবহার হয়?
প্রথমত আমার বাসায় গোসলের গরম পানি হাড়িতে বহন করা হয়না। হাড়িতে বহন করতে হলে দুই হাতে হাড়ি ধরতে হয় আর সেটা আমাদের বুকের বা পেটের কাছাকাছি থাকে যা ভুমি থেকে অনেক উপরে। এটা অনেক বিপদজনক।

আমার বাসায় বড় বালতিতে গোসলের গরম পানি বহন করা হয়। বালতির হাতল ধরে খুব সহজে রান্নাঘর থেকে বাথরুমে নেয়া যায়। হাত ফসকে পড়ার চান্স খুবি কম। আর যদি পড়েও যায় সেটা হতে বড় দূর্ঘটনা হবার চান্স কম। কারন বালতিটা ভুমি থেকে খুব সামান্য উঁচুতেই থাকে। ফেসবুকে একজন পাঠক আরো ভালো বুদ্ধি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “প্রয়োজনীয় পোস্ট এর জন্য ধন্যবাদ, শিবলী ভাই। গোসলের গরম পানি থেকে নিরাপদ থাকার জন্য আমাদের বাসায় আমরা আর একটা কাজ করি. রান্না ঘর থেকে যে বালতিতে করে পানি আনি তাতে আগেই একটু ঠাণ্ডা পানি নিয়ে নেই, এতে কোন সময় ই খুব গরম পানি বহনের ঝুঁকি থাকেনা.”

আমার জমজ দুটি মেয়ে আছে। ওদেরকে খুব ভালো করেই বুঝিয়ে দিয়েছি গরম পানির ভয়াবহতা। যখন বালতিতে রান্না ঘর থেকে বাথরুমে পানি নেই আমরা আগে নিশ্চিত হই বাচ্চা সাবধানে দুরে আছে। আর গরম পানি যদি টয়লেটে রাখতেই হয় কিছুক্ষনের জন্য, দরজা বন্ধ রাখি। আর বাচ্চাদের বুঝিয়ে দিয়েছি যেন গরম পানি দেখলে সেটার কাছে না যায় এবং বাসার বড়দের সেটা বলে দেয়।

এটাই যথেষ্ট নয় বাচ্চাকে বোঝাবার জন্য। সাবধান করার পরেও শিশুর কৌতুহুল থেকে যেতেই পারে গরম পানির উপর। তাই, বাচ্চাকে দুরে রেখে নিজেই গরম পানিতে হাত দেবার অভিনয় করুন। যেমন একটা গ্লাসে কুসুম গরম পানি নিয়ে সেটাতে আমার আঙ্গুল ডুবিয়ে বাচ্চাদের দেখিয়েছিলাম। যখন গরম পানিতে আঙ্গুল ডুবিয়েছিলাম, যোরে উফ্‌ করে চিৎকার দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিলাম গরম পানির যন্‌ত্রনা অনেক। এভাবে শিশুদের সচেতন করা যায় বিপদ জনক বিষয়গুলিতে।

তবে শিশুকে সচেতন করার চাইতেও বাসার বড়দের অধিক সচেতন থাকবে হবে গরম পানি ব্যবহারে।

তবে শুধু গোসলের গরম পানিই নয়। যে কোন গরম জিনিষ থেকেই সাবধান থাকবেন। যেমন: মাইক্রোওভেন থেকে গরম খাবার বের করে টেবিলে রাখলেন আর বাচ্চা এসে চট করে সেটা ধরে খেতে গেলো। বা গরম আইরন মেঝেতে বা টেবিলে এমনভাবে রাখলেন যে শিশুর নাগালে চলে আসলো। (আমার কাজিনের ছোট ছেলে গরম আইরন ধরে বুকে লাগিয়ে ফেলেছিল।)

এই ধরনের ক্ষেত্রে আপনারা আপনার শিশু সন্তানের নিরাপত্তা কিভাবে নিশ্চিত করে থাকেন তা শেয়ার করুন আমাদের সকলের সাথে। অনেকেই উপকৃত হবে।


আপনার সন্তানকে নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে এখানে ক্লিক্‌ করে প্রশ্ন করতে পারেন। শিশু লালন পালন সংক্রান্ত বিষয়ে আরো আলোচনা হয়ে থাকে ফেসবুকেও


ছবি: ইন্টারনেট থেকে।


Advertisements
This entry was posted in শিশু, শিশু লালন পালন বিষয়ক and tagged , , , . Bookmark the permalink.

One Response to শীতে গোসলের গরম পানি আর আমাদের শিশু সন্তানেরা

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s