সন্তান যখন মাদকাসক্ত পিতা-মাতার করণীয়

বিজ্ঞানী গবেষক ও চিকিত্সকরা ধূমপান ও মাদকদ্রব্যের নেশা করার অন্তরালে যে কারণগুলি সক্রিয় বলে চিহ্নিত করেছেন তা হলো-

১. সংগীদের চাপ এবং বন্ধুদের কাছে সমর্পণ করার চেষ্টা- একথা খুবই সত্য যে, যাদের সংগে বন্ধুত্ব হবে তাদের মধ্যে যদি মাদকদ্রব্য গ্রহণের নেশা চালু থাকে তবে সেই নেশায় তাকে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়। বন্ধুরা নেশা করলে তারও নেশা করতে হয়। একে বলা হয় “পিয়ার গ্রুপ প্রেসার” এবং প্রথমতঃ এই নেশা শুরু হয় ধূমপান বা সিগারেট থেকে। পরবর্তীতে সিগারেট এর সাথে ফেনসিডিল, হেরোইন, মদ ও গাঁজার ব্যবহার শুরু হয়।

২. নেশার প্রতি কৌতুহল- যৌবন ও কৈশোরে এমন একটা সময় আসে যখন অজানাকে জানার আগ্রহ বাড়তে থাকে। যদি কেউ এই মাদক নেশার জালে আটকা পড়ে তবে তা থেকে বেরিয়ে আসা খুবই শক্ত। ছেলেমেয়েরা যখন তার পিতামাতা, শিক্ষক বা অভিভাবক-কে ধূমপান করতে দেখে তখন সেও সেটা করতে চায় এবং কৌতুহল বাড়ে।

৩. সহজ আনন্দ লাভের বাসনায় মানুষ অনেক সময় আনন্দ লাভের এক সহজ উপায় হিসেবে মাদকের প্রতি ঝুঁকে পড়ে এবং ধীরে ধীরে তা নেশায় পরিণত করতে পারে এবং সিগারেট হচ্ছে আমাদের দেশে সহজলভ্য একটি মাদকদ্রব্য। কারণ তাতে রয়েছে নিকোটিন।

পিতামাতা ও মাদকাসক্ত সন্তান
আসক্ত সন্তানের অভিভাবক বিশেষত স্নেহময়ী মায়ের কারণে কখনো কখনো সদস্যটি আরো মারাত্মক হয়ে দাঁড়ায়। স্নেহাতিশয্যে মা সন্তানের এই দুষ্কর্মের কথাটি যতদিন সম্ভব পরিবারের অন্যান্য অভিভাবকদের কাছে গোপন রাখার চেষ্টা করেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব সন্তানের অনেক অযৌক্তিক দাবি (টাকা পয়সা ও অন্যান্য) একদিকে পূরণ করে চলেন অন্যদিকে নানাভাবে সন্তানের প্রতি নজর রাখতে বা বুঝিয়ে শুনিয়ে সন্তানকে মাদক গ্রহণ থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করেন। অবশেষে মায়ের এই একক প্রচেষ্টা যখন ব্যর্থ হয়ে যায় তখনই বিষয়টি পরিবারের অন্যান্য অভিভাবকদের গোচরে আসে। কিন্তু ততদিনে সন্তান মাদক গ্রহণে এমনভাবে অভ্যস্ত হয়ে যায় যে, তাকে মাদকমুক্ত করা অনেকাংশে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং মাদক গ্রহণের ব্যাপারে যথা শীঘ্রই সম্ভব নিশ্চিত হওয়া এবং অভিভাবকদের যথোচিত প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এ সমস্যা মোকাবেলায় দৃঢ় সংকল্প নেওয়া উভয়ই সন্তানের মাদকাসক্তি সমস্যা মোকাবেলায় অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী কাজ। অতএব মা বাবা অভিভাবক সকলে মিলেই সমস্যাটির সমাধান প্রথম থেকেই নিবেন।

পিতামাতার প্রধান কাজ হবে মাদকাসক্ত সন্তানকে একটি জটিল শরীরবৃত্তীয় ও মানসিক রোগের রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার চিকিত্সার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। আরও একটি বিশেষ প্রসঙ্গ, আমরা মাদকাসক্তকে অপরাধী হিসেবে দেখি। এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তারা আরও বেশী করে সে নেশার দিকে ঝুঁকে পড়ে। পরিবারের সকল সদস্য, বন্ুবান্ব, আত্মীয় স্বজনসহ আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একজন মাদকাসক্তকে আমরা সুস্থ করে তুলতে পারি।

সোর্স: ইত্তেফাক।
লেখক: অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরী, বিভাগীয় প্রধান, ডেন্টেষ্ট্রি বিভাগ, বারডেম ও ইব্রাহীম মেডিকেল কলেজ
মঙ্গল, ১৮ অক্টোবর ২০১১, ৩ কার্তিক ১৪১৮
ছবি: এই ছবির সাথে যে ছবিটি দেখানো হয়েছে তা ইত্তেফাকে প্রকাশ পায়নি। আমি যুক্ত করেছি ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করে।

Advertisements
This entry was posted in পত্র পত্রিকা, মিডিয়া, শিশু, শিশুরযত্ন, স্বাস্থ্য and tagged , , . Bookmark the permalink.

সন্তান যখন মাদকাসক্ত পিতা-মাতার করণীয়-এ 3টি মন্তব্য হয়েছে

  1. Nusrat Rahman বলেছেন:

    apni lekhalekhi ato komie diyechhen kano?

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s