৯/১১ এর ১০ বছর পর এই সব কি!

এই মাত্র খবরে দেখলাম (জানিনা খবরটি কতোটা পুরান) এই বছর ৯/১১ এ টুইন টাওয়ার ধ্বংসের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আমেরিকা অদ্ভুত একটা কান্ড করেছে! খবরটা শুনেই চরম মেজাজ গরম হয়েছে আমার। খবরটায় আসি। ছোট ছোট বাচ্চাদের জন্য রং করার বই পাওয়া যায়, সেটা আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু আমেরিকা যেটা করেছে সেটা এই যে, ওরা ওসামা বিন লাদেনের কমিক্স বই বের করেছে যেখানে নাকি (টিভি নিউজে কিছু কিছু ছবি দেখেছি) লাদেনকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কাজে নিয়োজীত দেখানো হয়েছে। সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দেয়া হয়েছে আমেরিকার টুইন টাওয়ার ধ্বংসের ছবি। যেখানে সামনে বড় করে লাদেনের ছবি, পেছনে বিমান উড়ছে আর ঐ দুরে টুইন টাওয়ার অক্ষত দেখা যাচ্ছে। আমি জানিনা পরবর্তী পাতায় কিসের কিসের ছবি কিভাবে দেখানো হয়েছে।

পাঠকরা যদি মনে করে থাকেন যে, আমি লাদেরন পক্ষে গান গাইতে এসেছি তবে ভুল করবেন। আমি লাদেন সম্পর্কে এতোটা জানিনা বা জানিনা বুস সম্পর্কেও। তবে টুইন টাওয়ার ধ্বংস করা নিয়ে বিতর্ক দেখেছি পক্ষে ও বিপক্ষে। যাই হোক, আমি যেটা বলতে চেয়েছি সেটা এই যে, ঐ কমিক্স প্রকাশক দাবী করছে যে, ছোট বেলা থেকেই শিশুরা রং করতে করতে প্রকৃত সত্য জানবে। সেই উদ্দেশ্যকে মাথায় রেখেই নাকি শিশুদের জন্য ঐ রং করার বইগুলি প্রকাশ করা হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে লাদেন বা বুশ – কোন একজনের পক্ষেও যদি থাকতাম তাও এই কাজটাকে অতি ঘৃনাই করতাম, এবং করছি। কোন বয়সের শিশুরা রং করে? মোটামুটি আড়াই হতে তিন বছর বয়স থেকে শিশুদের হাতে রং করার বই তুলে দেয়া হয়। চিন্তা করে দেখুন তবে, এতো ছোট শিশুকেও আমেরিকার মতো উন্নত বিশ্ব (যারা কিনা দাবি করে সকল বিষয়েই তারা খুব আধুনিক আর সচেতন বা আমরা অনেকেই আমেরিকার বিভিন্ন ভালোভালো সিষ্টেমের রেফারেন্স দিয়ে থাকি।) রেহাই দিলোনা এমন একটা ঘটনাকে। মাত্র আড়াই বছর বয়স থেকেই কি একজন শিশুর জানা প্রয়োজন যে, কিভাবে আক্রমন করে টুইন টাওয়ার ধ্বংস করা হয়েছিলো? বা সেই আক্রমনের সাথে বিনলাদেন নামের একজন জড়িত? সত্য-মিথ্যা যাই জানাবার প্রয়োজন হোক, সেটা কি আসলেই এতো অল্প বয়স থেকে জানা দরকার আছে? আমেরিকান শিশুদেরকে কি গ্রেড ফাইভ বা গ্রেড এইট বা আরো একটু বড় গ্রেড থেকে জানানো যেতোনা? নাকি আরো একটু বড় বয়স থেকে জানাতে গেলে বেসিক নলেজ দিয়েই তারা আঁচ করতে পারতো প্রকৃত ঘটনাটা। আর সেই কারনেই কি অতি শিশুকাল থেকেই বিষয়টি যোর করে মাথায় ঢুকানো হচ্ছে?

খবর দেখে যা বুঝলাম, টুইন টাওয়ার ধ্বংস সহ আরো কিছু ধ্বংসের সাথে লাদেনকে বড় করে আঁকা হয়েছে। আর শেষ পাতার দিকে নাকি দেখানো হয়েছে যে এই সকল কাজের জন্য লাদেনকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি আবারো বলছি, ঘটনা যেটাই হোক, এতো অল্প বয়সের শিশুদের জন্য এই বিষয়টি রং করার বই হিসাবে বাজারে বের করা অনেক বড় অপরাধ বলে আমি মনে করি। খোদ আমেরিকানরাই বলছেন, টুইন টাওয়ার ধ্বংসের মতো এমন একটা ঘটনা নিয়ে ১০ বছর পর শিশুদের জন্য এমন বই বের করার একমাত্র উদ্দেশ্য বানিজ্য ছাড়া আর কিছু নয়।

কেউ মন্তব্য করতে গিয়ে যদি মন্তব্য করতে চান যে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও সেটার ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে যদি রাজাকারদের পরিচয় তুলে ধরা হয় তবে সেটা কি অন্যায় হবে? আমি তখনো বলবো, অতি অল্প বয়সের শিশুর জানার দরকার নেই কাজাকার কি, তারা কিভাবে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে, মা-বোনদের ধর্ষন করেছে। আমার মুল কথা অতি অল্প বয়সের শিশুদের সাথে এই ধরনের কাজ করা ঠিক নয়। বরং অতি অল্প বয়সে তারা শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের সফলতার কথাই জানুক। আগে না হয় আমাদের শিশুরা দেশ প্রেমটাই শিখুক, আগে ওরা দেশটাকে প্রচন্ড ভালোবাসতে জানুক। বড়দের কাছে থেকে ওরা শিখুক কিভাবে দেশটাকে ভালোবাসতে হয়। আরো বড় হবার সাথে সাথে জানবে আরো একটু বিস্তারিত। আগে যদি ওদেরকে প্রকৃত দেশ প্রেম শেখাতে পারি, তবে শুধু চিহ্নিত অতিতের রাজাকার নয় বরং বর্তমানে পয়দা হওয়া রাজাকরদেরও চিনতে পারবে আর তা নির্মুলের জন্য কাজো করবে। রাজাকাররা যেমন বারবার ফিরে আসে, মুক্তিযোদ্ধারাও বারবার জন্মাবে।

আমি পাঠকদের অনুরোধ করবো শিশুদের হাতে যেটাই তুলে দেবেন, একটু বুঝে শুনে দিয়েন। শিশুদের নিয়ে আমার আর সকল লেখাগুলি পেতে এখানে ক্লীক্‌ করুন।

পরের পাতায় বিভিন্ন ব্লগ/ফোরামে পাওয়া কিছু মন্তব্য সংগ্রহ রেখেছি। যা পড়তে আমার ভালোলাগে।

Advertisements
This entry was posted in বিশ্ব ঘটনা, শিশু, শিশুরযত্ন. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s