সালাত আদায় করা নিয়ে আমার কিছু উপলব্ধী

সালাত আদায় (নামাজ) নিয়ে আমার কিছু ধারনা/উপলব্ধী হয়েছে আর সেগুলিই একটু শেয়ার করছি মাত্র। সালাতের যতো ফজিলত আছে সেগুলিকে অবশ্যই উপরে রেখেই আমি আমার কিছু উপলব্ধীকে প্রকাশ করছি। আর আমি শুধু আমার নিজের উপলব্ধীর কথা বলছি যা আমি অন্য কোথাও কখনো পড়িনি।

১ম: নামাজকে ফরজ করা হয়েছে। তারমানে ঐ ৫ ওয়াক্ত আমারা যে কাজেই থাকিনা কেন আল্লাহ্‌র কাছে সেজদা দিতে হবেই হবে। সালাত আদায় করতে হবেই হবে। কারন এটা ফরজ।

এবার এই হুকুম থেকে আমি যে উপলব্ধী পেলাম তা এমন:
(১) তারমানে কোন কাজে যতোই একাগ্র থাকিনা কেন নির্দিষ্ট কিছু সময় পরপর আল্লাহ্‌র কাছে সেজদা দিতেই হবে।

(২) কোন কাজের একঘুঁয়েমি কাটে। মানে কোন কাজে এতো ব্যাস্ত ছিলাম যে নামাজের সুযোগ পাওয়ায় একটু কাজ থেকে বিরত থাকা যায় আর আল্লাহ্‌কে সেজদা দিয়ে (তার আগে অজু) সারাক্ষনের কাজের চাপ দুরও হয়।

(৩) যে কাজে যতোই ব্যাস্ত থাকি কোন অবস্থাতেই আল্লাহ্‌ কে ভুলে যাবার সুযোগ নেই।

২য়: আল্লাহ্‌ ৫ ওয়াক্ত নামাজগুলিকে একসাথে এক ওয়াক্তে না রেখে ৫ টি ভিন্ন সময়ে আদায় করার জন্য ফরজ করেছেন। মানে প্রতিটি ফরজ নামাজ আদায় করার জন্য সঠিক সময় হওয়াটাও একটা ফরজ।

এবার এই হুকুম থেকে আমি যে উপলব্ধী পেলাম তা এমন:
(১) আল্লাহ্‌ চান না আমরা এমন কোন প্রকার কাজে এমনভাবে নিয়োজিত হই যা করতে কোন একজনের একটানা অনেক ঘন্টা লেগে যায়। তারমানে আমরা যে কাজই করছি তা মোটামুটি ৬-৭ ঘন্টা হয়ে গেলেই (ফজর থেকে যোহরটাই ধরলাম) একটা নামাজের ওয়াক্ত চলে আসে। তাহলে আমার উপলব্ধী এই যে এমন কোন কাজে আমাদের নিয়োজিত হওয়া যাবেনা যা একজনকে একটানা এতোটা সময় ধরে করতে হবে যে, নামাজ আদায় করার সময় পাবোনা। যেমন একটানা লম্বা ঘুম (অনেকেই শুধু লম্বা ঘুমাবার জন্য কিছু খেয়ে ঘুমায়)। তারমানে এমন লম্বা ঘুম দেয়া যাবে না যা কোন এক ওয়াক্তের নামাজ আদায়ে বিরত রাখে। এমন কোন খেলা দেখা/খেলা যা দেখতে গেলে বা খেলতে গেলে নামাজের সময় নামাজ আদায় করার সুযোগ পাওয়া যাবেনা (নামাজের সুযোগ পাওয়া গেলে ভিন্ন কথা)। মোটকথা, লম্বা সময়ের প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়া যেখানে নামাজ আদায়ের সুযোগ পাওয়া যাবেনা।

(২) ফজর নামাজ আদায় করার জন্য সূর্য ওঠার আগেই ঘুম থেকে উঠতে হবে। তারমানে তখন উঠাটাই শ্রেষ্ঠ এবং তখন না ঘুমানটাই শ্রেষ্ঠ।

(৩) নামাজ আদায় করতে হলে অন্তত পোষাক, দেহ ও নামাজের স্থান পবিত্র হতে হয়। তার মানে একজন নামাজী ঘুম থেকে উঠে সেই ভোর থেকে রাত পর্যন্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকছেন। আর যদি পবিত্র নাও থাকেন, তিনি খুব বেশী ঘন্টা অপবিত্র অবস্থায় থাকতে পারছেন না। কারন কিছু ঘন্টা পরেই আরেকটা ফরজ নামাজের সময় হয়ে যাবে। সুতরাং পবিত্র হাবার জন্য তার ভেতরে একটা তাগাদা থাকবে। তারমানে প্রতিটি সালাত আদয়কারী অধিক সময় পবিত্র থাকেন, পরিচ্ছন্ন থাকেন।

৩য়: একটা মাসয়ালা জেনেছি যে, পেটে ক্ষুধা নিয়ে নামাজ আদায় মাকরুহ্‌ বা উচিত নয়। বিশেষ করে যার খাবার আছে তার জন্য আরো উচিত নয়। এর কারন হিসাবে জানতে পেরেছি যে পেটে ক্ষুধা নিয়ে সালাদ আদায়ে মনোযোগ আসবে না।

এবার এই হুকুম থেকে আমি যে উপলব্ধী পেলাম তা এমন:
(১) আমরা অনেক সময় ভালোবাসার মানুষটির উপর অভিমান করে না খেয়ে থাকি। এখন দেখা যাচ্ছে একজন নামাজী মানুষ খুব বেশী হলে কয়েক ঘন্টাই অভিমান করে না খেয়ে থাকতে পারবে। তারমানে, যদি তার ক্ষুধা লাগে আর খাবার থাকে, তবে তাকে খেয়ে নিয়েই নামাজ আদায় করতে হবে। এখানে নামাজীর একটা সুবিধা এই যে, অভিমানটাও তাড়াতাড়ি ভাংতে হচ্ছে। তারমানে রাগ করে বেশিক্ষন থাকা সম্ভব হচ্ছেনা। 🙂

(২) আবেগ জনিত কারনে বা কোন বিচ্ছেদে (কারো মৃত্যুর দ্বারাও হতে পারে) মানুষ কষ্ট পায়। সেই কষ্টে কেউ না খেয়ে থাকবে সেটারো উপায় থাকছে না। কারন, যদি সে নামাজী হয় আর যদি সে চায় তার নামাজে জানাশুনা মকরুহ্‌ দোষ না থাকুক তবে সে না খেয়ে নামাজ আদায় করবে না। এখানে নামাজী ব্যাক্তি একটু হলেও বাস্তববাদী হচ্ছেন (তাদের চাইতে যারা কষ্টে বা বিচ্ছেদে অধিক সময় না খেয়ে থাকছেন বা অধিক সময় শোক পালন করছেন অনশন করে)।

ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা।

Advertisements
This entry was posted in ধর্ম. Bookmark the permalink.

সালাত আদায় করা নিয়ে আমার কিছু উপলব্ধী-এ 11টি মন্তব্য হয়েছে

  1. samina shabnam বলেছেন:

    Amar mot e Apnar chintagulo khubi valo ebong shothik ….

  2. samina shabnam বলেছেন:

    আপনার চিন্তাগুলোর সাথে আমি আরও একটা পয়েন্ট যোগ করতে ছাই। দৈনিক ৫ ওয়াক্ত নামাজ সময়মত পড়লে আমাদের সময়
    জ্ঞান বাড়ে এবং আমরা সময়ের মূল্য উপলব্ধি করতে পারি। জাতি হিসেবে আমাদের এমনেতেই দুর্নাম আছে আমাদের সময় জ্ঞান নাই। নিয়মিত নামাজ আদায় করতে পারলে আমরা এই দুর্নাম থেকে বেরিয়ে আসতে পারি। শুধু তাইনা, জাতি হিসেবেও অনেক উন্নত হতে পারি।

    • Shiblee বলেছেন:

      সত্যিই চমৎকার! সময় জ্ঞানের বিষয়টি ভাবিনি। আপনার কথা পড়ার পর মনে পড়ছে যে, যারা সালাত আদায় করেন তারা অধিকাংশ appointment বা schedule নামাজের সময়ের হিসাবে করে থাকেন। যেমন, জুম্মার নামাজের পর আসবো। আসরের পরপর অনুষ্ঠান শুরু হবে। ইত্যাদি ধরনের কথা শুনা যায় নামাজীদের কাছ থেকে।

  3. samina shabnam বলেছেন:

    আরও একটা পয়েন্ট ; পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে সঠিক নিয়মে নামাজ আদায় করলে meditation এর জন্য অথবা physical exercise এর জন্য আমাদের extra সময় দিতে হয়না। নামাজ এর মধ্য দিয়ে আমরা meditation এবং physical exercise দুটোই করে থাকি।
    ধন্যবাদ

    • Shiblee বলেছেন:

      সেতো অবশ্যই। কিন্তু নামাজে ‘পূর্ণ মনোযোগ’-টার দেখা কেন যেন সহজে পাওয়া যায় না। ‘পূর্ণ মনোযোগ’ নিয়ে আমার একটা ঘটনা মনে পড়ল এই মাত্র। আমার সঠিক মনে কোন যুদ্ধের ঘটনা (sorry সঠিক রেফারেন্স দিতে পারছিনা বলে) কিন্তু এতুটুকু মনে আছে যে কোন এক যুদ্ধে এক সাহাবীর পায়ে একটা তীর গাঁথে। তীরের আগায় আবার খাঁজ কাটা। মানে বিপরীত দিকে টানলেই যে তীরটি বের করা যাবে তাও নয়। কিন্তু এদিকে সাহাবী প্রচন্ড কষ্টও পাচ্ছিলেন তীরের যন্ত্রনায়। তখন তাকে নাকি নফল সালাত আদায় করার জন্য নির্দেশ দেয়া হলো। যখন উক্ত সাহাবী নামাজ আদায়ে দাঁড়ালেন, তখন নাকি তিনি আল্লাহ্‌র কাছে এমন ভাবে সপে গেলেন যে ব্যাথা যন্ত্রনা পাচ্ছিলেন না। আর ঠিক ঐ সময়ে অন্য সাহাবীর তার পা থাকে তীরটি ভেংগে বের করে ফেলেন।

      কি অদ্ভুত তাদের মনোযোগের স্তর! সত্যিই অবাক হই!

  4. samina shabnam বলেছেন:

    Yes! ei ghotona amio pray monekori r vabi kothay shei sahabir namaj r kothay amar namaj! ….shudhu taina, namajke bola howeche meraj shorup…shotti shotti srishtikortar shamne darale amader je feelings hobe, shei feelings tai namaj porar shomoy amader howa uchit….. r shei feelings e pouchte parai holo ”purno monojog”. Onek shadhonar bepar! Moteo shohoj kaj noy!! tobe jara ‘khodaviru’ ebong shottikar ‘God conciousness’ jader aache , tader jonno ta shohoj….ekotha quran ei Allah bolechen…

  5. sadiq বলেছেন:

    খুব সুন্দর উপলব্ধি ভাইয়া। আমি আরেকটা বিষয় একটু বলতে চাই। সালাতের ক্ষেত্রে আমার মতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন হচ্ছে আমরা কি বলছি তা হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করা। চিন্তা করে দেখুন আমাদের দেশে আজকে কিন্তু নামাজির সংখ্যা অনেক। মসজিদ গুলোতে এমনকি ফজরের ওয়াক্তেও প্রচুর মুসল্লি হয়। জুম’আর নামাজেতো রাস্তা আটকে নামাজের ব্যাবস্থা করতে হয়। কিন্তু দেখেন আমাদের সমাজের অবস্থা কি দিনদিন ভাল হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে? একদিকে মসজিদে নামাজীর সংখ্যা বাড়ছে আর অন্যদিকে সমাজ খারাপের দিকে যাচ্ছে!!! এমনত হওয়ার কথা নয়। তার মানে আমাদের সালাতে কিছু সমস্যা আছে। আমরা যা বলি তা মুখস্থ বলি এবং আমাদের সালাত শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ। যেমন আমরা সালাতের শুরুতেই বলি “আল্লাহু আকবার” অর্থাৎ আল্লাহ মহান বা আল্লাহ সর্বোচ্চ শক্তিমান। কিন্তু বাস্তবে আমাদের জীবনের দিকে তাকালে কি মনে হয় আমরা আল্লাহ’কে সর্বোচ্চ শক্তিশালি মনে করি? আল্লাহ আমাদের বুঝেশুনে সালাত আদায় করার এবং সালাতের শিক্ষাকে জীবনে বাস্তবায়ন করার তৌফিক দান করুন।

    • Shiblee বলেছেন:

      এটার উপরতো কথাই নাই। নামাজের ভেতর কি বলছি সেগুলি বোঝা অবশ্যই দরকার। যদিও না বুঝলে হয়তো নামাজ আদায় হয় কিন্তু উপকারীতা পাওয়া যায়না। আর বুঝলে আরেকটা বড় সুবিধা এই যে, নামাজে মনোযোগ আসে, নামাজে আবেগ আসে, আল্লাহ্‌র সাথে একটা যোগাযোগ তৈরী হয়। আমি চেষ্টা করছি আমার সন্তানরা যেন বুঝে বুঝেই নামাজ আদায় করে। আল্লাহ্‌ যেন আমাদের সকলকে বুঝে সালাত আদায়ের তৌফিক দান করেন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s