মাইরের উপর ঔষধ নাই

সর্বশেষ সম্পাদনা: ২৩-ডিসেম্বর-২০১০
আমরা যারা বড় হয়ে গেছি অনেক সময় বলি ‘মা-বাবা মাইরের উপর রাখতো, সেটাই ভালো করতো। আজ কালকার মা-বাবাদের মধ্যে কি যেন হইছে। বাচ্চারে নাকি মারা ঠিক না। আরে, মাইরের উপর ঔষধ নাই। আজ যদি আমার বাপ আমারে না মারতো তবে আজ আমি এমন থাকতাম না।’

আমি অসহমত করবো না কথাগুলির সাথে। সেই সময়ের জন্য, সেই সময়ের জ্ঞানে হয়তো সেটা তাদের জন্য, উপযুক্ত মাধ্যম ছিলো। সেই কালের মা-বাবারা যারা তাদের সন্তানদের মাইরের উপর রাখতেন তারা হয়তো শিশুদের বিকাশ নিয়ে তেমন চিন্তা করতেন না। যেমন, আমার আব্বুর জন্ম হয়েছে অস্বাস্থ্যকর গোসল খানায়! তাহলে চিন্তা করে দেখুন আমার দাদা-দাদীর জন্ম কেমন অযত্নে হয়ে থাকতে পারে! শিশু জন্ম আনন্দের হলেও, শিশুর জন্মের প্রস্তুতি, স্বাস্থ্যগত জ্ঞান ইত্যাদির অভাব ছিলো (এখনও আছে)। তারা পৃথিবীর কোনো শিশুর ভেতরই ভালো ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাতে পারতেন না। লেখাপড়া করে ভালো রেজাল্ট না করা পর্যন্ত তারা তাদের কোন সন্তানকেই তেমন দাম দিতেন না। অথচ তাদের প্রতিটি সন্তানের মাঝেই ছিলো অনেক সম্ভাবনা। কিন্তু যে সন্তান প্রকৃতিগতভাবে নিজ থেকে ভালো কিছু দেখাতে পেরেছে হয়তো সেই সন্তান বেশি আদর পেয়েছে আর যে সন্তান পারেনি সে মা-বাবার মাইরতো খেয়েছেই সাথে বড় ভাইবোনেরও। শাসন আর মাইর খেতে খেতে বড় হয়ে এখন সেই সন্তানটাই বলছে, ‘মা-বাবা মাইরের উপর রাখতো, সেটাই ভালো করতো। আজ কালকার মা-বাবাদের মধ্যে কি যেন হইছে। বাচ্চারে নাকি মারা ঠিক না। আরে, মাইরের উপর ঔষধ নাই। আজ যদি আমার বাপ আমারে না মারতো তবে আজ আমি এমন থাকতাম না।’

আপনারা যারা দাবী করছেন যে ছোট বেলায় অনেক মাইর আর শাসনের উপর ছিলেন বলেই আজ এমন ভালো আছেন, তাদের বলি, হয়তো আপনি আজো জানেন না আপনার ভেতর আসল সম্ভাবনাটা কি ছিলো! আপনি হয়তো কোন এক পেশায় আছেন কিন্তু আপনি হয়তো আপনার অধিক সম্ভাবনাটা জীবনে আর খুঁজেই পাবেন না। আমি কিন্তু এটা বলছি না যে, শিশু সন্তানদের শ্বাসন করাই যাবে না। আমার আপত্তি শাসনের পদ্ধতিতে। শিশুদের সাথে শিশু উপযোগী সময় কাটাতে হবে। আপনার শিশুকে নির্মম শাসন করবেন না

অধিক শ্বাসন আর মাইরের ভয়ে আমাদের শিশুর বিকাশ ঘটে না। সে অনেক কথাই লুকিয়ে রাখে। প্রাণ খুলে নিজের মনের কথা বলতে ভয় পায়। নিজ ঘরে থেকেও নিজের মা-বাবা বা পরিবারের বড়দের বলতে পারে না নিজের সমস্যার কথা। হয়তো সে কোন বিষয়ে ভীত, সেটাও বলতে পারে না অনেক সময়। মাইরের ভয়ে পড়া ঠিক মতো করতে পারে না। মাইরের ভয়ে স্কুলে যেতে চায় না। মাইরের ভয়ে জানা কিছুও ভুলে যায়। ক্রমে আত্নবিশ্বাস কমতে থাকে।

হয়তো সে কোন বিষয়ে বিরক্ত/বিভ্রান্ত, যেটা বড় কারো সাথে শেয়ার করলে সমস্যার সমাধান হতে পারতো। কিন্তু সেই বিষয়ে কথা বলার লোক নেই তার চারপাশে। অবশেষে তারই সমবয়সী কারো সাথে শেয়ার করে। বন্ধুর সাথে শেয়ার করে। আর তার মতো তার বন্ধুরও নেই সেই বিষয়ে জ্ঞান। বিভ্রান্ত হয় তার বন্ধুও। নিজের মতো করে সমাধান বের করে। বিপথগামী হয়েও যেতে পারে এই সব ঘটনায়।

ভুলে যাবেন না একজন শিশু একটা জীবন, একজন মানুষের বাচ্চা। আমরা অধিক শ্বাসন বা নিষ্ঠুর শ্বাসন করেই যাবো আর সে নিশ্চুপ হয়েই থাকবে তা কিন্তু নয়। কেউ কেউ চুপসে যায় আর কেউ কেউ হয়তো আপনার আমার জন্যই বিপদের কারন হয়ে যায় ভবিষ্যতে।

(২য় পাতায় একটি ছবি দিয়েছি যেখানে কোন একটা স্কুলে অনেক ছাত্রদের একসাথে শাস্তি দেয়া হচ্ছে খুব নিষ্ঠুর ভাবে। যদি শিশু নির্যাতনের দৃশ্য আপনার সহ্যের মাঝে না থাকে তবে দেখবেন না দয়াকরে। আপনি বিরক্ত হলে আমি দায়ী নই। অন্যথায় ৩য় পাতায় কিছু সত্য ঘটনা আলাপ করেছি।)

This entry was posted in আচরন, শিশু and tagged , , . Bookmark the permalink.

মাইরের উপর ঔষধ নাই-এ 9টি মন্তব্য হয়েছে

  1. Asadullah Onorthok বলেছেন:

    আপনার লেখার অপেক্ষায় রইলাম……………।

  2. Debashis Roy বলেছেন:

    I liked this note. To me understanding the child psychology is very important. Most of our parents and school teacher don’t have any knowledge about that. I think those who understand this matter, they have a responsibility to convey this information to others. Specially the school teachers deals with the kids have to have this knowledge must. Sometime a shocking punishment of childhood can change a child life completely, its will interrupt the natural growth of the child.
    Correction: the image on the second page is not a punishment photograph. In this photo the bikers is a karate expert, who using some village school student for his demo.

    Ref: http://maradhimanni.blogspot.com/2009/07/tamilnadu-government-school-invites.html

    • Shiblee বলেছেন:

      Lot of thanks Debashis vhai for correcting the source of the 2nd page photo. Yes, it is true that as a parent we often demand that we take lot of care to our kids but unfortunately we do that without much attachment with our kids and without having much knowledge on child psychology, as you’ve also said. We often think giving best teacher, school, books are enough. But we don’t consider our kids as a human. We force to make our kids becoming something that we dream. But we never try to find the potentiality in our kids.

      School? most are just a business institute. Unfortunately I’d to say that.😦

  3. Monirul Islam বলেছেন:

    বাচ্চারা কথা শুনতে চাইবে না, দুষ্টামি করবে, একটু-আধটু বেয়াদবি করবে এটাই তো স্বাভাবিক। অনেক মানুষ আছে যারা এইসব একদমই সহ্য করতে পারেনা, আবার অনেকে আছেন যারা বাচ্চাদের এইসব আচরন স্বাভাবিকভাবেই নেয়। একজন মানুষ হিসেবে আপনি ওদের আচরনে মাঝে মাঝে বিরক্ত হতেই পারেন, তাই বলে কি মারধর করবেন? এটাও সত্য যে সবসময় বুঝিয়ে বললে সব বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কাজ হয় না, একরকম বিরক্ত হয়েই মাইর দিতে হয়। তাই বলে কি মাইর ছাড়া আর কোনো ঔষধ নাই?

    আমাদেরকে আরও ধৈর্য্যশীল হতে হবে। আমি মনে করি, আপনার সহ্য শক্তি পরীক্ষা করার এটা একটা উৎকৃষ্ট জায়গা।

  4. পলাশ মাহমুদ বলেছেন:

    আপনার ব্লগে আগেও একবার ঢু মেরেছিলাম আরেকটি লেখা পরবার জন্য। আজকে লিফো ফোরাম থেকে আপনার ব্লগে আসা। আপনি আসলেই খুব্বী দারুন লিখেন। সুন্দর ভাবে গুছিয়ে। ধন্যবাদ আপনাকে। লেখাটি পছন্দ হয়েছে।

  5. Anik বলেছেন:

    asha kori abar likhben.need something political issue.

  6. biplob বলেছেন:

    Do not treat your child as a “miniature adult”,
    ‘Behave well’ does not mean anything to your child……. the child may not know the word “well’

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s