আসছে শীতে শিশুর যত্ন

আসছে শীতে শিশুর যত্ন নিন। নিশ্চই ভাবছেন শিশুর ত্বকের যত্ন নিয়ে কথা বলবো। না আমি বলতে চাইছি আসছে শীতে যদি চান তবে কিভাবে আপনার শিশুর মনে যত্ন নিতে পারেন। শীতে মনের যত্ন! প্রশ্ন করছেন, তাই না? আমার দৃষ্টিতে এটাকে শীতে মনের যত্নই বলা যায়। আসল কথায় আসা যাক।
এটা করবেন, সেটা করবেন, এটা করা উচিত, ওভাবে করা উচিত এই ধরনের কথা দিয়ে পত্র পত্রিকায় অনেক ফিচার বের হয়। আমি সে সব না বলে বরং সরাসরি বলবো আমি কি করেছি আর তার ফলাফল আজ পর্যন্ত কি?

গতবছর ২০০৯-এর শীতে হঠাৎ আমার মাথায় একটা বুদ্ধি আসে। আমি চাইছিলাম আমার বাচ্চাদুটি যেন দরিদ্র শিশুদেরকে ওদের কিছু পোষাক দান করে। কিন্তু কিভাবে সেটা করাবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। কিভাবে ওদের মন থেকে কাজটা করাবো সেটা ভাবছিলাম। হঠাৎ একটা বুদ্ধি মাথায় আসে আর সেটাকে ঘটাই এভাবে।

আমার বাচ্চা দুটি প্রায়ই আমার ছোটবেলার গল্প শুনতে চায়। তো আমি সেই সুযোগে একটা গল্প বানায় বানায় বলে দেই। গল্পটা এমন:
একদিন আমরা পাড়ার বাচ্চারা খেলতে মাঠে গেলাম। গিয়ে দেখি আমরা প্রায় সব বাচ্চাই এসেছিলাম কিন্তু আমাদের দুই বন্ধু খেলতে আসেনি। ওরা আবার দুই ভাইও। ওদের ছাড়া খেলতে ভালোও লাগছিলো না। তো আমরা বন্ধুরা একে অপরের কাছে জানতে চাইলাম যে ঐ দুই বন্ধু কেন খেলতে আসেনি। কেউ বলতে পারছিলো না। তো আমরা সব বন্ধুরা ওদের বাসায় গেলাম। আন্টির সাথে দেখা হলো। আন্টির কাছে জানতে চাইলাম ওদের দুজনের কথা। ‘ওরা বাসাতেই আছে।’ আন্টি জানালেন। আমরা ঘরে গিয়ে দেখি ওরা ঘরের ভেতর বসে পড়ছে।

আমাদের সবাইকে দেখে ওরা দুজনতো মহা খুশি! ওরা খেলতে যায়নি কেন জানতে চাইলে বললো, ‘আমাদের শীতের পোষাক নাইতো তাই আমরা বাইরে খেলতে যেতে পারছিনা। বাইরে গেলে শীত লাগে।’ ওদের কথাটা শুনে আমরা কষ্ট পেলাম! পরে করলাম কি, আমাদের যাদের বেশি বেশি শীতের পোষাক আছে তারা একটা একটা করে বিভিন্ন পোষাক সংগ্রহ করলাম। একজন মোজা দিলো, একজন মাফলার দিলো, একজন জ্যাকেট দিলো, একজন সোয়েটার দিলো এভাবে দিতে দিতে ওদের দুজনের জন্যই শীতের পোষাক সংগ্রহ হয়ে গেলো।

ব্যাস, ওদের বাসায় আবার গেলাম। আর ঐ পোষাকগুলি ওদের উপাহার দিলাম। ওরা দুজন এতো খুশি হলো যে বলার মতো নয়। তারপর ওরা শীতের পোষাক পরে নিলো আর আমরা সবাই মিলে খেলা করলাম।….

পাঠক, ঠিক এইভাবেই আমি গতবছর আমার জমজ বাচ্চাদুটিকে গল্প শুনিয়েছিলাম আর এই গল্প শুনে ওরা কি করেছিলো সেটা এবার বলছি।

গল্প শোনাবার প্রায় ১-২ সপ্তাহ পর ওরা নিজে থেকেই ইচ্ছা প্রকাশ করলো গরীব শিশুদের পোষাক উপহার দেবে। আমি পোষাক চাইলে ওরা ওদের পছন্দ মতো শীতের পোষাক বেছে দিলো আমার হাতে। আমিও ওদের এই ইচ্ছার সাথে যোগ দেই। মানে বড়দের পোষাকও ওদের উপহারের তালিকায় যোগ দিলাম। তারপর সেই উপহার বিতরন করার ব্যাবস্থা করি। মজার কথা কি জানেন, যখন ওরা ওদের পোষাক পছন্দ করছিলো হঠাৎ আমাকে প্রশ্ন করেছিলো যে গরীব জমজ বাচ্চা হয় কিনা। আমি যখন বললাম ‘হয়’। ওরা দুজন মিলে এক রকমের শীতের পোষাক পছন্দ করে উপহারের বাক্সে ঢেলে দিলো। আর বললো, গরীব জমজ বাচ্চাদেরও তো এর রকমের জামা পরতে ইচ্ছা করে, তাই না? তাই দিলাম।

যাই হোক, আমি জানিনা আমার কাজটা কতুটুকু সঠিকভাবে হয়েছে বা এটার কোন নেগেটিভ দিক আছে কিনা তবে আমার এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছেনা নেগেটিভ কিছু ঘটেছে। বরং এই শীতেও (২০১০) ওরা গতবছরের মতো একই কাজ করবে বলে ইচ্ছা করেছে।

আপডেট: ২০১০ এও ওরা শীতের পোষাক দান করেছে নিজ থেকেই।


No reproduction of this article may be made including electronic or paper reproduction without the express written consent of the author.

This entry was posted in কাজকর্ম, শিশু, শিশুরযত্ন. Bookmark the permalink.

আসছে শীতে শিশুর যত্ন-এ 4টি মন্তব্য হয়েছে

  1. Tanvir Gaus বলেছেন:

    That reminds me another story, a true story – will not mention the names who they where but just wanna share –
    there was a couple who used to collect all their old cloths, specially the kids as usually their dresses never fit the next yr. the couple used to collect these cloths & get out at late night, just before the Eid & roam around the city – distribute the cloths & some money as much as they could. Seeing the smile on the street kids face or the old man who just laugh like a mad having a warm sweater – that what their satisfactions where.

    For you boss- u r doing a good job of teaching your kids about Humanity, go 1 step forward – let them be part of the distribution – they will learn from you – your knowledge, your teaching will remain with thm & with their Descendants.. I know I’m not a good human like most of you & might have advised something without implementing by myself – But you have started something – you have to carry on with that …

  2. Ron বলেছেন:

    I agree with Gaus here.

    Feeling of happiness is so tremendous that you will cry when you will see the smile at needy people’s face being a distribution team member. And the idea of making the children a part of the team is just awesome!

  3. Parvez বলেছেন:

    ভাইয়া, আপনার এই শিশু লালন পালনের ব্লগ সাইট আসলেই একটা প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা। আমি আপনার এই ব্লগ সাইট সবাই কে পড়ার উপদেশ দিই। আমারও সাইট টা খুব পছন্দ। আপনার ইমেল অ্যাড্রেস বা নাম্বার পেলে আপনার সাথে যোগাযোগ করার প্রয়াস পেতাম। আমার ইমেইল অ্যাড্রেস par_ece@yahoo.com

    যাইহোক এই লেখাই কিছুটা ভুল হয়েছে বলে আমার ধারণা। যেমন আপনি গল্প শুরু করেছেন

    আমার বাচ্চা দুটি প্রায়ই আমার ছোটবেলার গল্প শুনতে চায়। তো আমি সেই সুযোগে একটা গল্প বানায় বানায় বলে দেই। গল্পটা এমন: “একদিন আমরা পাড়ার বাচ্চারা খেলতে মাঠে গেলাম। গিয়ে দেখি আমরা প্রায় সব বাচ্চাই এসেছিলাম কিন্তু আমাদের দুই বন্ধু খেলতে আসেনি।…”

    আমার মতে গল্পটি এরূপ হওয়া উচিত ছিলঃ

    একদিন একই পাড়ার কয়েকজন বাচ্চা খেলতে মাঠে গেল। গিয়ে দেখে প্রায় সব বাচ্চাই এসেছিল কিন্তু তাদের দুই বন্ধু খেলতে আসেনি।…”

    কারণ দুনিয়াতে এরূপ ঘটনা ঘটতেই পারে। আর যদি সত্যই আপনার ছোটবেলার কোন ঘটনা হয় তবে ভিন্ন কথা। আর যদি তা না হয় তবে মিথ্যা হবে। মিথ্যার সাময়িক লাভ দেখা গেলেও তার পরিনতি ভাল হয়না।

    • Shiblee বলেছেন:

      ঐ যে কথায় আছেনা, nobody is perfect, আর তাই আমিও perfect নই। হ্যা গল্পটা মিথ্যা, তবে এরুপ গল্পের কাছাকাছি ঘটনা আমার জীবনে (আমাদের সকলের জীবনেই আছে) আছে আর সেগুলি মিলে moral lesson টা কিন্তু যথেষ্ট উপকারী। আপনি হয়তো অবগত যে, পৃথিবীতে এমন হাজার হাজার মিথ্যা গল্প (উপদেশ মূলক) আছে যেগুলির উপকারীতা একটাই, সেটা হলো ‘আত্নশুদ্ধী’ জাতীয় কিছু উপলব্ধী করা। যাই হোক, ব্লগে আমার ও আমার মেয়েদুটির সামান্য কিছুই প্রকাশ পায় মাত্র আর তাই অনেকেই হয়তো মনে করে থেকে থাকে যে, আমি বাচ্চাদের সারাদিন মিথ্যা গল্প দিয়েই গড়ে তুলছি। কিন্তু বিষয়টি কিন্তু তা নয়। এই গল্পটা মাত্র একটা দিনের ছোট্ট একটা ঘটনা। আমি বলছিনা আমি সব কিছু সঠিক করি। আপনারা অনেকেই মন্তব্য করেন বলে, আপনাদের কাছ থেকেও শিখতে পারি অনেক কিছু।🙂

      এই বিষয়টি আমার খুব ভালো লাগলো ভাইয়া, যে, আপনি নিজে পড়েন আর আপনার পরিচিতজনদের পড়ার উপদেন দেন। আপনাকে ইমেলে আমার কন্টাক্ট জানিয়ে দেবো। ভালো কথা, সম্ভবত আজকেই একটা ভিডিও পোষ্ট দেবো। ভিডিও রেডি আপলোড করা হয়েও গেছে। শুধু পোষ্ট দেয়া বাকি। আশা করি খেয়াল রাখবেন ও দেখবেন।🙂

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s