১০ বার নয়, ১০০বার নয়, মাত্র ১বার বলুন/করুন…

আমার এই লেখা শিশুদের জন্য কিন্তু বড়রা পড়বে ও মানবে। আমাদের অনেকের ঘরে বিভিন্ন বয়সের শিশু আছে। ওদেরকে আমরা অবশ্যই অনেক ভালোবাসি। প্রানের চেয়েও বেশি! কিন্তু আমরা বড়রা শিশুদের সাথে অনেক অন্যায় আচরণও করি। আর হয়তো কোন কোন আচরণ একটি শিশুর জন্য মারত্নক ক্ষতিকর হয়ে থাকতেও পারে। আমরা অবশ্যই জেনে বুঝে করিনা। আমাদের জ্ঞানের অভাবেই এটি করি। (শিশুদেরকে নিয়ে আমার আগেও একটি লেখা ছিলো। সেটি এটি: শিশুর সাথে কখনই এই কাজটি করবেন না…)

যাই হোক, এবার আমি যেটা বলতে চাইছিলাম যে, আমরা বড়রা অনেকেই মনে করি শিশুর শিক্ষা স্কুল থেকে শুরু হবে। তার আগে শুধুই হেসে খেলে বড় হওয়াই ভালো। অবশ্য কেউ কেউ আর একদম উল্টাটা করি। শিশুকে একদম খেলার সময় না দিয়ে, জগতের নানা জ্ঞানে জ্ঞানী করতে থাকি। আমরা অনেকেই শিশুকে অধিকাংশ সময় এইভাবে শেখাই:

– সুনাতা, আন্টিকে সালাম দাও। বলো, আসসালামু আলাইকুম।

আবার বিদায় দেবার সময় হয়তো বলি:
– সুনাতা, আন্টিকে আবার আসতে বলে দাও।

ইত্যাদি ইত্যাদি (আমি খুবই ছোট্ট একটা উদাহরণ দিলাম মাত্র।)

আমরা অনেকেই এই পদ্ধতিতে বাচ্চাকে শেখাবার চেষ্টা করি কিন্তু নিজেরা অনেকেই পালন করিইনা। মানে নিজেরাই সালাম দেইনা কিন্তু বাচ্চাকে দিতে বলি, নিজেরাই অনেক ডিসিপ্লীন মেনে কাজ করিনা কিন্তু বাচ্চাকে করতে বলি, যোর করি।

অথচ, বাচ্চাকে ভালো কিছু শেখাবার জন্য ১০ বার নয় ১০০ বার নয় মাত্র ১বার একটি ভালো কাজ ওর সামনে করলেই হয়। ব্যাস! সত্যিই বলছি, প্রয়োজনে আপনি সকল ভালো কাজগুলি আপনার বাচ্চাকে দেখিয়ে দেখিয়ে করুন, কাজটি করার সময় তাকে দেখার সুযোগ করে দিন, কাজটি করার সময় সে প্রশ্ন করে বিরক্ত করবে (কারন সব কিছুই তার অজানা ও প্রচন্ড আগ্রহ) তার সকল প্রশ্নের উত্তর দিন। যদি দেখেন সে আপনার ভালো কাজটির প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে তবে এই সুযোগে বাড়তি কথা বলুন তার সাথে কাজটি নিয়ে। কাজটি সম্পর্কে কিছু তথ্য দিন তাকে। সে মনে রাখতে পারবে কি পারবে না, প্রতিটি কথা বুঝতে পারছে কি পারছেনা এতো গভীর চিন্তা না করলেও হবে। যাষ্ট একবার করুন তার সামনে। একইভাবে ভালো ভালো আচরণ তার সামনে করুন। (একই ভাবে আপনার খারাপ স্বভাব বা যা দেখলে শিশু বিভ্রান্ত হতে পারে তা তার সামনে করবেন না।)

অফিস যাবার সময় কিছু পিতাকে বলতে শুনেছি যারা তার পুত্র/কন্যা সন্তানকে বলছে, “আম্মুকে বিরক্ত করবে না, আম্মুর কথা শুনবে, তোমরা তোমার আম্মুকে ঘরের কাজে হেল্প করবে।” ইত্যাদি ধরনের। কিন্তু দেখা যায়, এই পিতাগুলির অনেকেই তার সেই স্ত্রীকে ঘরের কাজে সাহায্য করেনা। অথচ একজন স্বামী যদি তার স্ত্রীকে ঘরের কাজে সাহায্য করেন তবে তার সন্তান সেটি অবশ্যই দেখবে এবং শিখবে যে সেটাই করা উচিত। শিশুটিকে আলাদা করে বলার দরকার নেই। শিশুর ভেতর শিশু সুলভ অনেক আচরণতো থাকবেই। না শুনবার প্রবনতাও থাকবে। কিন্তু তারপরও শিশুকে ভালোকিছু শেখানো কঠিন কাজ নয় বরং একটু ধৈর্যের কাজ। আমরা নিজেরা পালন করার মাধ্যমে শিশুকে সহজে শেখাতে পারি। বরং বলে বলে শেখানোই বেশি কষ্টকর। আমি আমার নিজের জীবনেই সেটার প্রমান পেয়েছি হাড়েহাড়ে।

বড় লেখা অনেকেই পড়েন না, তাই বড় করছিনা। আশা করি অনেকেই বুঝতে পেরেছেন আমার বক্তব্য।


No reproduction of this article may be made including electronic or paper reproduction without the express written consent of the author.

Advertisements
This entry was posted in আচরণ, শিশু, শিশুরযত্ন. Bookmark the permalink.

১০ বার নয়, ১০০বার নয়, মাত্র ১বার বলুন/করুন…-এ 9টি মন্তব্য হয়েছে

  1. tusin বলেছেন:

    ভাল লাগল লেখাটা।
    আশা করি আপনার ব্লগে আরত্ত সুন্দর লেখা পাব।
    কথা দিচ্ছি আবার আসব আপনা ব্লগে……

  2. dayem বলেছেন:

    আমার খুব ভাল লেগেছে, আসলে আপনি সত্যটাই তোলে দরেছেন, তবে একটু চিন্তা করেন তো, আপনি কার থেকে শিখেছেন, হয়তো ওই পরিবেশটা পেয়েছেন, আপানার পাশের বাড়ির ছেলেটা তা পাচ্ছে না, ৯৯ ই মধ্যে শিশুদের অসভ্য আচারণ করি. আমি এখন তাকি আবু ধাবিতে, এখানে আমি একটা স্কুলে চাকরি করি , আপনি যে সব বলেছে ওই ওরা করে , তবে আমাদের দেশে করে না, করেলে ও তা কম , আপনার উপরোক্ত আচরণ গুলো আগে বড়দের করতে হবে , তবে শিশু শিখবে, এইটাই নিয়ম,

    এই রকম পোষ্ট দিতে খাকেন

  3. মহিউদ্দিন বলেছেন:

    আপনের পোষ্ট গুলোকে অন্যান্য বাংলা ফোরামে ছড়িয়ে দিতে চাই আপনের আপত্তি না থাকলে
    অবশ্যই লিঙ্ক সহ।

  4. তানিয়া বলেছেন:

    আপনার সাথে আমি একমত। এই প্রথম এখনো বিয়ে না করায় আফসোস হচ্ছে। বিয়ে করলে আমিও আপনার মত লিখতে পারতাম। এই লেখাগুলো লেখার কথা ছিল আমার। আমার আগেই আপনি লিখে ফেলেছেন। আমার আগে কেউ কিছু করে ফেললে সেটা আমার সহ্য হয় না। 😥 আপনার লেখাগুলো পড়ে হিংসা লাগছে।

    • Shiblee বলেছেন:

      আরে! এমন হিংসা আমারো হয়। যখন দেখি এমন কিছু কিছু্ একটা করেছে যা আমিও পারতাম, তখন অমন একটু অনুভুতি হয়। 🙂 আপনার ব্লগ পড়াবো সময় করে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s