বাচ্চার খাওয়া দাওয়া সহজ করার পদ্ধতি (৪র্থ পাতা)

যদি আগের পাতা তিনটির বক্তব্য না পড়ে থেকে থাকেন তবে অবশ্যই আগে সেটা পড়ে নিন। নইলে এই পাতার কথাগুলি খাপছাড়া লাগতে পারে। ১ম পাতা২য় পাতা৩য় পাতা


এবারে পড়ে দেখুন বিভিন্ন ব্লগের ব্লগাররা কি মন্তব্য করেছিলেন বাচ্চাদের খাওয়াবার বিষয়টি নিয়ে। এখানে যা কিছু সংগ্রহ করেছি, সেগুলির সবগুলির সাথেই যে আমি সহমত তা নয়। জাষ্ট বিভিন্ন ব্লগারদের মতামত প্রকাশ করেছি মাত্র। এটা বলতে চাইছিনা যে, প্রতিটি কথাতে আমারো মত আছে।
একজন ডক্টর ও কিছু ব্লগার ব্লগে বলেছেন:
ডাঃ আতিক: যে বাচ্চারা খাইতে চায় না, তাদের সবচে বড় ট্রিটমেন্ট হচ্ছে- তিনবেলা সময় করে খাবার অফার করা। খাইলে খা, নাইলে যা। শুনতে রুড হলেও, ইট রিয়েলি ওয়র্কস। কোনদিন কোন গরীব ঘরের কোন মাকে এসে কমপ্লেইন করতে শুনিনি- আমার বাচ্চা খাইতে চায় না। সুতরাং প্রবলেম কোথায়, সেটা জলবৎ তরলং।

ডাঃ আতিক: আমার কাছে অনেক বাবা মা আসেন এই কমপ্লেইন নিয়ে, যে তাদের বাচ্চারা কিছুই খেতে চায় না। আমি সব্বাইকেই প্রথম যেই প্রশ্নটা করি, সেটা হল- ও কি চিপস খেতে খুব পছন্দ করে? এবং অবধারিত ভাবেই সব(প্রায় ১০০ %) মা বাবাই বলেন- ইয়েস। আমার উত্তর হয়- এইটা বন্ধ করেন। কারন চিপস এর মধ্যে এমন কিছু উপাদান থাকে যা বাচ্চাদের ক্ষুধা নষ্ট করে, আর অন্যদিকে চিপস এর প্রতি আসক্তি তৈরি করে, যা অনেকটাই নেশার মতন। এইভাবে কিন্তু মা বাবারাই বাচ্চাদের অভ্যাস নষ্ট করেন।

বিভিন্ন ব্লগার বন্ধুরা শিশুকে খাওয়াবার বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন মন্তব্য আকারে। যদি সময় থাকে তো এগুলি পড়তে পারেন।

কাওছার আহমেদ: কানে ধরে একটা চটকনা দিলে কাজ হতে পারে, আমার বোনের বাচ্চার উপর এটা এপ্লাই করতে বলছিলাম তারা রাজি হয় না, টিভি দেখায়া, ঢং ঢাং করে খাওয়ায়, তাও খায় না বাচ্চা! ফলে হাড্ডি মন্ত্রী হইসে!! একটা চটকনা দিলে না খাওয়ার কোন কারণ দেখি না!!

নৃ বলেছেন: মিউজিক ভিডিও বা কার্টুন বা কিসু একটা না চালালে বাচ্চা খেতে চায় না এইটা শুনলে আমারো রাগ লাগে। একটা বয়স পর্যন্ত, যে সময়টাতে বাচ্চাকে মাত্র সলিড খাওয়ানো শুরু করা হয়, কিংবা ভাত শুরু করা হয় ওই সময় তাও এইটা ওইটা দেখায়ে, গান গায়ে খাওয়ানোর একটা কারণ থাকে.. কিন্তু বাচ্চা ৩/৪ হয়ে গেলে এইরকম করার আর কারণ কি!
ওই বয়স থেকে বাচ্চাকে যতোদূর সম্ভব টেবিলে বসায়ে খাওয়ানো উচিত। আরো ভালো হয় যদি টেবিলে বসায়ে তাকে নিজে নিজে খাওয়া শেখানো যায়.. খুবই ক্লান্তিকর প্রসেস, বাট্, একবার শিখায়ে ফেললে অনেক সুবিধাও আছে।

নুর নবী দুলাল: “যে বাচ্চারা খাইতে চায় না, তাদের সবচে বড় ট্রিটমেন্ট হচ্ছে- তিনবেলা সময় করে খাবার অফার করা। খাইলে খা, নাইলে যা। শুনতে রুড হলেও, ইট রিয়েলি ওয়র্কস। – ডাঃ আতিকে”

ডাঃ আতিকের সাথে একমত। আমার ছোট ছেলেটা এরকম না খাওয়ার ভং ধরছিল গত বছর। বাচ্চার মায়ের পীড়াপিড়িতে চট্টগ্রামে অনেক শিশু বিশেষজ্ঞ দেখানোর পরেও দেখি কোন উন্নতি নেই। এরপর বাধ্য হয়ে ঢাকার এক প্রখ্যাত শিশু বিশেষজ্ঞ’র কাছে নিয়ে আসলাম। সব শুনে বলল, না খেলে সে বেঁচে আছে কেমনে? নিঃশ্চয় কিছু না কিছু খায়। বললাম, বাজারের প্যাকেটজাত খাদ্যের প্রতি তার বেশী আগ্রহ। যেমন চিপস, জুস ইত্যাদি। পরে কোন ঔষুধ না দিয়ে বলল, খাওয়ার সময়গুলোতে খাওয়ার জন্য ডাকবেন। না খেলে পাত্তা দেবেন না। দেখবেন একসময় সে ঠিকই খাবে। আর বাজারের কোন প্যাকেটজাত খাদ্য খাওয়াবেন না। এই এক উপদেশেই তিনদিনের মাথায় সে বাসায় তৈরী খাদ্য খেতে শুরু করল।

রুবাইয়্যাত: হইতে পারে তো….ছোটসময় আম্মা গল্প বলতে বলতে খাওয়াতো আর না হয় পাখির খাঁচার সামনে নিয়ে বসে পাখি দেখতে দেখতে খাওয়াইতো। অনেককে দেখি কবিতা বলে বলে বাচ্চাকে খাওয়ায়। এখন সময় পাল্টাইছে- গল্প, কবিতা বলতে গেলে পরিশ্রম বেশী হয়।

রাজকুমারী: আমি বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশের বাবা-মাকে দিখিনি বাচ্চাকে খাবার খাওয়াতে এত কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ করতে! ওদের তিন চার বছর বয়সী শিশুরা সুন্দর করে সময়মত টেবিলে বসে চামচ দিয়ে খেয়ে উঠে চলে যায়।

ত্রিশ/পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী মা-বাবারা একটা ছোট্ট শিশুর সামান্য একটা অভ্যাস গঠন করিয়ে দিতে অপারগ, শুনলেই হাসি পায়।


১ম পাতা২য় পাতা৩য় পাতা  ।  ৪র্থ পাতা

আপনার সন্তানকে নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে এখানে ক্লিক্‌ করে প্রশ্ন করতে পারেন।

Advertisements

5 Responses to বাচ্চার খাওয়া দাওয়া সহজ করার পদ্ধতি (৪র্থ পাতা)

  1. Nusrat Rahman বলেছেন:

    shiblee bhai, boraborer motoi khubi upokari post. save kore rakhlam. amar husband keo porte dibo.

    • Shiblee বলেছেন:

      উপকৃত হলেই আমি সার্থক। 🙂 আশা করি আপনার বন্ধু/বান্ধবদের সাথেও শেয়ার করবেন শিশু লালন পালন বিষয়ক এই সকল বিষয় নিয়ে।

  2. Mikrani Dental বলেছেন:

    অসাধারন কালেকশান আপনার। ধন্যবাদ শিবলি ভাই । আপনার এই পেজ আজ থেকে প্রতিদিন ব্রাউজ করবো ইনশাহআল্লাহ।

    কিছু জানতে
    কিছু মানতে।

    বাচ্চাদের দাঁতের উপর আমার এখটা লেখাও শেয়ার করার ইচ্ছা আছে।
    ভালো থাকবেন – ড: আয়েশা

    • Shiblee বলেছেন:

      আপু, আপনি ডক্টর, খুব ভালো লাগলো। আরেকজন ডক্টর আপু এই ব্লগ ফলো করছেন। উনি অবশ্য দেশে নেই। জানি আপনারা (মানে যারা ডক্টর) খুব বিজি থাকেন। তবুও মনে মনে খুব ইচ্ছা যে, যদি ভলিন্টিয়ার (যেমন আমি করছি এই ব্লগের মাধ্যমে) ডক্টর পেতাম বিভিন্ন মতামতের জন্য, খুব ভালো হতো। ভালো কথা, আমার কাছে অনেকে বিভিন্ন প্রশ্নও করে থাকে তাদের সন্তান নিয়ে, সেগুলির উত্তর সংগ্রহ করতে আমার বেশ সময় লাগে যদি health বিষয়ে হয়। কিন্তু যদি কিছু পরিচিত ডক্টর পেতাম, তবে সহজেই অনেক কিছু জানাতে পারতাম প্রশ্ন কর্তাদের। আশা করি আপনার পোষ্ট পাবো। ভালোকথা, ফেসবুকেও অনেকে আলোচনা করছি এই বিষয়ে https://www.facebook.com/shishu.lalon.palon

  3. Mehnaj Tabassum বলেছেন:

    Vaia Khub e monojog diye porlam… Amar baccha 12 month er ag projonto sob kheto ja khaowatam tai… Kintu arpor theke e suru holo problem akhn 13.5 month akhn o Khub e picky eater.. Posondo na hole khabe na… Meat fish to khai e na even dim er kusum khay Tao week a 2 din… Oke kono chips drinks bairer juice chocolate khaowanor habit korai ni… O fruits khay tai otai vorosha… Kintu baki protin o kivabe pabe:( last 2 din dhore sudhu alu kheye ase… Alu r chop or fry r kisu na:( boro prblm holo nasta.. Sokale kono kisu tar nasta hisabe posondo na:( kono suggestion ase ki vaia??

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s