বাচ্চার খাওয়া দাওয়া সহজ করার পদ্ধতি (২য় পাতা)

যদি ১ম পাতার বক্তব্য না পড়ে থেকে থাকেন তবে অবশ্যই আগে সেটা পড়ে নিন। নইলে এই পাতার কথাগুলি খাপছাড়া লাগতে পারে।


বাড়তি কিছু কাজ করে শিশুকে খাওয়ানো।
(১) শিশুরা খুব মনোযোগ দিয়ে খেয়ে থাকে যদি সুন্দর সুন্দর গল্প শোনাতে পারেন। শিশুরা একটা বিষয়ে খুব ছাড় দেয় আর সেটা হলো এই যে, ওরা একই গল্প বারবার শোনে একই রকমের আগ্রহ নিয়ে। মোটেও বিরক্ত হয়না। গল্পের ভান্ডার যদি কম থাকে তবে নিজের ছোট বেলার ঘটনা শোনাবেন। একটু খেয়াল করে দেখুন আপনি আসলে অনেক গল্পই জানেন কিন্তু ভুলে গিয়েছেন বহুদিন গল্পবলার চর্চা করেননি বলে। সেগুলি মনে করুন। ছোটদের গল্পের বই কিনে পড়ুন। যদি তারপরো কাজ না হয়, তবে বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলুন। বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলার কিছু আইডিয়া পেতে “শিশুদেরকে গল্প বলার কৌশল” পড়ুন। (আবারো মনে করিয়ে দেই, প্রথম পাতার শুরুতেই বলেছিলাম যে, শিশুদের একটা সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গেলে আরো নানা বিষয়ে কথা বলা হয়ে যেত হয়। আর তাই গল্প বলার বিষয়টিও আলাদা করে চলে আসলো।)

(২) খাবার পরিবেশনে একটু ভিন্নতা আনাতে পারেন। আপনার ভিন্নতায় যদি বেশী মুগ্ধ হয়ে যায় তবে সেটা সে বারবার চাইতে পারে, যেটা আরেকটা বিরক্তির কারন হয়ে দাঁড়াতে পারে কারো কারো জন্য। সেইক্ষেত্রে প্রথমদিন থেকেই বলে দিন যে, মাঝে মাঝে আপনার মাথায় আইডিয়া আসে ওভাবে খাবার খাওয়াতে। আবার নতুন আইডিয়া আসলে নতুন বৈচিত্রে খাওয়াবেন।

(৩) যেদিন আমরা husband-wife দুজন খুবি ক্লান্ত থাকি এবং বাচ্চা দুটিকে খাইয়ে দেবার মতো ধৈর্য্য আর সময় থাকেনা বা ওরাও নিজ হাতে খেতে চাইছেই না, একটা বুদ্ধি করি যেটা খুব কাজে দিয়েছে আজ পর্যন্ত। খুব কম সময়ে খাওয়া শেষ করানো যায়। সেটা হলো, আমের সময় আম আর দুধ দিয়ে ভাত মাখিয়ে খাইয়ে দেই আর অন্য সময় কলা আর দুধ। বিশ্বাস হচ্ছেনা? অনেকেই বিশ্বাস করেছেন জানি। আম/কলা দিয়ে দুধের সাথে মাখিয়ে দিলে তাড়াতাড়ি খাওয়ানো শেষ হয়ে যায়।

(৪) যদি সম্ভব হয় বিভিন্ন সময় বাচ্চার বিভিন্ন কর্মকান্ডের ছবি তুলে রাখবেন। যেমন আমার সংগ্রহে বেশ কিছু ছিলো। আমি অবসরে, সেই ছবিগুলি আমার দুই বাচ্চার সাথে দেখি আর ওদের motivation দেই (এখন ওদের বয়স ৬, এখন ওরা অনেক কিছুই বোঝে)। যেমন যখন ওদেরকে ছবিগুলি দেখাই, এভাবে কথা বলে থাকি:

এই দেখো আম্মু, এই ছবিতে তোমরা অনেক ছোট, তাই আম্মু খাইয়ে দিচ্ছিল। কিন্তু তোমরা যখন একটু বড় হয়েছো তখন নিজে নিজেই খাবার চেষ্টা করতে।

যখন একটু বড় হয়েছিলে, তখনো ডাইপার পড়তে, এই দেখো তোমরা নিজের হাতে কি সুন্দর করে খাচ্ছো।

এই দেখো, ছোট বেলায় কেমন দুষ্টু ছিলে, চকলেট দিয়ে মাখিয়ে ফেলেছো।

আর এই দেখো, এই ছবিতে, গ্লাসে জুস্‌ খাওয়ার জন্য কেমন করে কাড়াকাড়ি করছিলে। জুস্‌ তোমাদের খুব পছন্দ ছিলো। (পাঠক কি বুঝলেন? মানে কই এর তেলে কই ভাজার মতো, তাই না? বাচ্চার ছোট বেলার ছবি দেখিয়ে তাকেই উল্টা motivation দেয়া।)

আমার হাতে কমলালেবু খাচ্ছিলে। ইস্‌ এমন টক ছিলো! দেখেছো, ছোট বেলায় তোমরা অনেক কিছুই খেতে, খেতে চাইতে আর বড় হতে হতে তোমরা কিছু কিছু জিনিষ খেতে চাওনা।

এই ছবিটা বেশ মজার, দেখো আম্মুরা। টক সস্‌ খেতে চেয়েছিলে। আমি আঙ্গুলে চাখাতেই ইস, কি টক!

যখন আরো একটু বড় হলে, এই দেখো, নিজেই নিজের হাতে বাটি নিয়ে কেমন করে খাচ্ছো। একদম গাপুস গুপুস। 🙂

এই দেখো এইটাতো আরো মজার! খাটের নিচে থাকতো বিস্কুটের কৌটা। সেই কৌটা বের করতে তোমরা বিস্কুট খাবার জন্য।

আমরা যদি বিস্কুটের কৌটা আবার বিছানার নিচে রাখতাম, তোমরা আবার সেটা বের করতে।

পাঠক, যখন আপনিও আপনার বাচ্চার সাথে এমন করে কথা বলে বলে ওদের আগের ছবিগুলি দেখাবেন, ওরা অনেক motivation পাবে। এবং দেখবেন, সারাক্ষন একটা smile ফেস নিয়ে থাকবে। আর তাছাড়া, এভাবে সন্তানের সাথে সময় কাটানোটাও একটা quality time pass বলতে পারেন। আবার continue করি।

এই দেখো সোনামনি আমার, এই ছবিতে তুমি নিজেও খাচ্ছিলে আর আমাকে খাইয়ে দিচ্ছিলে।

আরো বড় হলে তোমরা নিজে বসে বসে, টুলে খাবারের বাটি নিয়ে খেতে।

এই দেখো, এই ছবিটা সিলেটের একটা হোটেলে। যখন চেয়ারে বসা শিখলে, তখন তোমরা নিজে নিজেই খেতে।

ওরে বাবা, এই দেখো আম্মু, চামচ দিয়ে মুড়ি চানাচুর খাচ্ছো।

এই দেখো আম্মুরা। তোমরা তখন আরো একটু বড়। মেহমানের বাসাতেও তোমরা নিজের হাতেই খেয়েছো। (ওরা কিন্তু motivation পেতে থাকছে।)

আবার যখন কোথাও খেতে গিয়েছি, তখনো তোমরা নিজের হাতেই খাও। তারমানে বাসাতেও তোমরা সব সময় নিজের হাতে খেতে পারবে।

আর এই ছবিতে দেখো। তোমরা শুধুই বিস্কুট খাচ্ছো কেমন মজা করে!

গ্লাসে দুধ দিলে দুধ খেয়ে ফেলো কেমন সুন্দর করে। (পাঠক: বাচ্চাদের কাজের প্রশংসা করতে হবে। তবে দেখবেন বেশ আগ্রহ পাবে।)

ফলটল কতো মজা করে খাও তোমরা, এই দেখো!

তোমরা, তরমুজ খেতে খুব মজা করে। তুরমুজ তোমাদের প্রিয় একটা ফল। এক সময়তো এমন হয়েছে, তরমুজের সময় তোমরা প্রতিদিনি তরমুজ খেতে।

আর এভাবে চেষ্টা করলে ওরা অবশ্যই নিজহাতে খাবে।


সন্তান লালন পালেন যাদের ধৈর্য্য আরো একটু বেশী, তারা চাইলে পরের পাতা পড়তে পারেন।
১ম পাতা২য় পাতা৩য় পাতা৪র্থ পাতা

আপনার সন্তানকে নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে এখানে ক্লিক্‌ করে প্রশ্ন করতে পারেন।


এই সাইটে প্রকাশ পাওয়া শিবলী মেহেদীর লেখা/প্রকাশনা অন্য কোথাও ছাপবার আগে পূর্ব অনুমুতি নিতে হবে। ছবি: আমার বাচ্চাদের।

বাচ্চার খাওয়া দাওয়া সহজ করার পদ্ধতি (২য় পাতা)-এ 4টি মন্তব্য হয়েছে

  1. Mardia বলেছেন:

    বাচ্চাগলোকে চুরি করতে ইচ্ছা করে!!

    • Shiblee বলেছেন:

      ওরে বাবা, তবেতো মনে হচ্ছে আমাকে লেখালেখি বন্ধ করে দিতে হবে। 😉 আমার লেখা আমার বাচ্চার জন্য হুমকি হয়ে যাচ্ছেতো। 😀

  2. rabby বলেছেন:

    these kids r sooooo wanderfull

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s