এনার্জি ড্রিংকস ও ফিলিংস জুস নয়, রেক্সি রেক্টিফাইড স্প্রিট

রেক্টিফাইড স্প্রিট ব্যবহার করে দেদার তৈরি হচ্ছে এনার্জি ড্রিংকস ও ফিলিংস জুস। RAB-এর অভিযানে গাজীপুর, শ্রীপুর, কালিয়াকৈরে ১০টিরও বেশি নকল জুস কোম্পানি সিলগালা করেও থামানো যাচ্ছে না ভেজাল জুসের উৎপাদন।

রাজধানীর ডেমরা থানার সানারপাড় বাগমারা বাজার এলাকায় এনার্জি ড্রিংকস ও ফিলিংস জুসের নকল কারখানা স্থাপন করে একটি চক্র দেদার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএসটিআইর কোনো রকম অনুমোদন ছাড়া ওই কারখানায় স্যাপিড এনার্জি ড্রিংকস ও ফিলিংস জুস তৈরির কর্মকাণ্ড চালানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো রকম আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে বিএসটিআইর নামে লাখ টাকা মাসোহারা প্রদানের ভিত্তিতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এ পণ্য দুটি ব্যাপকহারে উৎপাদন ও বাজারজাত চলছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, প্রায় দেড় বছর ধরে বাগমারা বাজারসংলগ্ন জনৈক মোতালেব হোসেনের তত্ত্বাবধানে মাল্টিফোল্ড ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি এ অবৈধ কারখানা স্থাপন করেছে। সেখানে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ২০-২২ জন নারী-পুরুষ হাতুড়ে পদ্ধতিতে কথিত এনার্জি ড্রিংকস ও ফিলিংস জুস বোতলজাত করছেন।

বিএসটিআইতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এনার্জি ড্রিংক বলতে কোনো পণ্যসামগ্রী উৎপাদন বা বাজারজাতের জন্য বিএসটিআই কোনো রকম অনুমোদন দেয় না। তা সত্ত্বেও অনুমোদন পাওয়ার জন্য একটি আবেদনপত্র বিএসটিআই কার্যালয়ে জমা দিয়েই কারখানায় দেদার উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কথিত স্যাপিড এনার্জি ড্রিংকসের বোতলে ‘বিএসটিআই অনুমোদিত’ লেবেল লাগিয়ে প্রকাশ্যে বাজারজাত করলেও বাধা দেওয়ার যেন কেউ নেই। এ ব্যাপারে ওই কারখানার ডিএমডি মোতালেব মিয়া দাপটের সঙ্গেই জানান, বিএসটিআইর লাইসেন্স না পেলেও প্রতি মাসে বিএসটিআই কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের চাহিদা মিটিয়েই কারখানা সচল রাখা হয়েছে। র‌্যাবের স্থানীয় ইউনিট ও থানা পুলিশকেও ম্যানেজ করা আছে বলে দাবি করেন ডিএমডি। কারখানাসংশ্লিষ্ট অপর একটি সূত্র জানায়, মাল্টিফোল্ড ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লি.’র চেয়ারম্যান আলহাজ ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বিএসটিআইর জনৈক আবু হানিফের সখ্য থাকায় তার অবৈধ কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ মিলছে।

বিএসটিআইর কেমিক্যাল বিভাগের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, যে কোনো ড্রিংকস উৎপাদন ও বোতলজাতের ক্ষেত্রে প্রথম শর্তই হচ্ছে অটোমেশিনে সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করা। নির্ধারিত ১২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তরল উপকরণগুলো ফুটিয়ে তা রিফাইন করার মাধ্যমে সংমিশ্রণ ঘটানো এবং বোতলজাত করা থেকে বোতলের মুখ লাগানো_ সবই অটোমেশিনে ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু মাল্টিফোল্ড ফুড অ্যান্ড বেভারেজের কথিত কারখানায় সব কিছুই চালানো হচ্ছে হাতুড়ে পদ্ধতিতে।

অস্বাস্থ্যকর নোংরা স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে ঘিঞ্জি জায়গায় একদল নারী-পুরুষ গ্যাসের চুলি্লতে নানা উপকরণ সাধারণভাবেই ফুটিয়ে ডান হাতে, বাম হাতে সমানে বোতলজাত করে চলছে। বোতলগুলোর মুখ লাগানোও হচ্ছে যেনতেনভাবে। গ্যাসের লাইনও চালানো হচ্ছে চুরির মাধ্যমে। বিএসটিআইর ওই কর্মকর্তা আরও জানান, স্যাপিড ড্রিংকসে উচ্চমাত্রার নেশাদ্রব্য ছাড়াও রেক্টিফাইড স্প্রিটের সমন্বয় ঘটানো হয়। অন্যদিকে একই কারখানায় ফিলিংস নামে যে জুস উৎপাদন হয় তাতে ভায়াগ্রা-জাতীয় উচ্চমাত্রার যৌন-উত্তেজক ওষুধের সংমিশ্রণ ঘটানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পুরান ঢাকায় অবৈধ কেমিক্যাল ব্যবসায়ী হিসেবে আলোচিত আলহাজ ফরিদ আহমেদ নিজ সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে মাল্টিফোল্ড ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লি. নামে একটি কোম্পানি গঠন করেন। ওই কোম্পানির নামেই বাগমারা বাজারঘেঁষা মহল্লায় অবৈধ এনার্জি ড্রিংকস ও ফিলিংস জুসের কারখানা খুলে বসেন তিনি। কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন আলহাজ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হচ্ছেন তারই ছেলে আরেফিন নূর রাজীব ও ডিএমডি পদে আছেন মোতালেব মিয়া নামে অপর একজন পার্টনার। নকল কারখানা বিধায় সেখানে একটা সাইনবোর্ড পর্যন্ত লাগানো হয়নি, সব কিছুই চালানো হচ্ছে চুপিসারে। রাজধানীসহ আশপাশের এলাকাতেই স্যাপিড জুসের মতো নকল ভেজাল আর বিষময় এনার্জি ড্রিংকস ও কথিত ফিলিংস জুসের অর্ধশতাধিক কারখানা গজিয়ে উঠেছে। অনুমোদন না থাকলেও পুঁজি হিসেবে আছে বিএসটিআইর বখরা পরিশোধের ‘টোকেন’। সেসব কারখানায় ‘বিএসটিআইর লোক’ পরিচয়ে নিয়মিত একটি চক্রের আনাগোনাও রয়েছে। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের খবর পেলেই কারখানাগুলোর সব গেট তালাবদ্ধ করে মালিক-কর্মচারীরা গাঢাকা দিয়ে থাকেন। ফলে কোনো রকম শাস্তিও পেতে হয় না তাদের। কিন্তু তাদের উৎপাদিত পণ্যের দেদার বাজারজাত চলে দেশজুড়ে।

সোর্স: বাংলাদেশ প্রতিদিন, সাঈদুর রহমান রিমন, ১৮-অক্টোবর-২০১১।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s